যে ক্যাম্পাস প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শাটল ট্রেনের শব্দ, ক্লাসের ব্যস্ততা আর বন্ধুদের আড্ডায় মুখর থাকে, ঈদের ছুটি ঘনিয়ে আসতেই সেখানে নেমে আসে ভিন্ন এক আবহ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পাহাড়ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে এখন আর তেমন ভিড় নেই; করিডোরে পদচারণা কমে গেছে, ক্যাফেটেরিয়ার টেবিলগুলোও অনেকটাই ফাঁকা। শিক্ষার্থীরা একে একে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে উঠছে এই প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস।
পবিত্র রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় টানা ২০ দিনের ছুটিতে গেছে। গত ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত। দীর্ঘ এই অবকাশকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা। কেউ আগেভাগেই রওনা দিয়েছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থেকে প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণস্পন্দন হিসেবে পরিচিত শাটল ট্রেনেও এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্ন দৃশ্য। প্রতিদিনের ক্লাস বা পরীক্ষার তাড়াহুড়োর বদলে ট্রেনের বগিগুলোতে ভেসে বেড়াচ্ছে বাড়ি ফেরার আনন্দ। কাঁধে ব্যাগ, হাতে ছোট ট্রলি–শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে স্পষ্ট পরিবারের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস। ট্রেনের জানালার পাশে বসে কেউ মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের পরিকল্পনা নিয়ে গল্পে মেতে উঠেছেন। শাটলে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শিক্ষার্থী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ক্যাম্পাসে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ক্লাস সবকিছু মিলিয়ে দারুণ সময় কাটে।
কিন্তু ঈদ এলেই মনে হয়, বাড়ি না গেলে যেন কিছু একটা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই এবারও সবাই মিলে একসাথে শাটলে উঠে বাড়ির পথে রওনা হলাম।
আবাসিক হলগুলোতেও এখন আগের মতো ভিড় নেই। অনেক কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে, রিডিং রুমের চেয়ারগুলো খালি পড়ে আছে। ডাইনিং হলের ভিড়ও কমে এসেছে। যারা এখনো ক্যাম্পাসে আছেন, তারা শেষ মুহূর্তে ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত। বিদায়ের আগে রুমমেটদের সঙ্গে শেষবারের মতো গল্প, হাসি–ঠাট্টা ও অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে কাটছে সময়।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, পুরো পরীক্ষা ও ক্লাসজুড়ে ক্যাম্পাসেই থাকা হয়। তাই ঈদের ছুটি মানেই পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ। কয়েকদিনের জন্য হলেও সবার সঙ্গে সময় কাটানো যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ১৬ মার্চের আগেই ক্যাম্পাস ত্যাগ করছেন। ফলে প্রতিদিনই কমছে ক্যাম্পাসের কোলাহল। রাতের দিকে ক্যাম্পাসে হাঁটলে এখন আর আগের মতো আড্ডার শব্দ শোনা যায় না। পাহাড়ের গা ঘেঁষে থাকা রাস্তা, অনুষদের নিরিবিলি প্রাঙ্গণ আর হলের ফাঁকা বারান্দা সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তবে এই নীরবতা দীর্ঘস্থায়ী নয়। ঈদের ছুটি শেষে আবার যখন শিক্ষার্থীরা ফিরে আসবেন, তখনই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস। আবার শোনা যাবে শাটলের শব্দ, জমে উঠবে টং দোকান, ঝুপড়ি ও ক্যাফেটেরিয়ার আড্ডার কোলাহল। আর সেই কোলাহলেই ফিরে আসবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চিরচেনা রূপ।












