মহেশখালীতে বাড়ির উঠান থেকে এক নারী ও তার ছয় বছরের ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে বারোটায় উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার চান্দাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী বাড়ির বাইরে মা ছেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার চান্দাকাটা গ্রামের আনচার উল্লাহর মেয়ে ও ঘটিভাংগা গ্রামের রহিম উল্লাহর স্ত্রী ইসমত আরা বেগম (৩২) ও তার ছেলে আবরার (৬)।
পরিবারের দাবি–মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ৬ বছরের ছেলেকে গলা টিপে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মা। নিহত ইসমত আরার পিতা আনচার উল্লাহ বলেন, আমার মেয়ের ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। মেয়েটি ভারসাম্যহীন হওয়ায় ৬ বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেই থেকে আমার বাড়িতে থাকে। কিছুদিন পর পর মেয়েটি মৃগি রোগে ভোগে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো প্রকার উপসম হয়নি। আমি বাড়ির বাইরে গরু নিয়ে মাঠে ছিলাম। হঠাৎ এলাকার লোকজন এসে জানায়, আপনার মেয়ে ও নাতি মাটিতে পড়ে আছে। আমি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে দেখি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত মেয়ের মরদেহটি মাটিতে পড়ে আছে। নাতিকেও মৃত অবস্থায় মায়ের পাশে দেখতে পাই। তারা কীভাবে মারা গেছে আমি নিজেও জানি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবজোম ঘটিভাংগা এলাকার রহিম উল্লাহ গত ১০ বছর আগে ইসমত আরাকে বিয়ে করে। তাদের ২ পুত্র সন্তান, পরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে ইসমত আরা বাবার বাড়িতে থাকেন। ৫ বছর আগে বাবার বাড়ির পুকুরে পড়ে তার বড় ছেলের মৃত্যু হয়।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা মা ও ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।












