বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত সন্দ্বীপের তারেকের লাশ দেশে

| শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বাহরাইনে নিহত বাংলাদেশি কর্মী সন্দ্বীপের এস এম তারেক আলীর লাশ এক মাস পর দেশে পৌঁছেছে।

গত ২ মার্চ সকালে বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত হন তারেক আলী। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেখানে নিহতের আত্নীয় রিয়াজউদ্দীনও ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

লাশ গ্রহণের পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সমন্বিতভাবে নিহতদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে মরদেহ আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে। মন্ত্রী জানান, নিহত তারেক আলীর পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফনকার্যের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং এর বাইরে ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বীমার ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতের এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত এ পর্যন্ত তিন জন প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ দেশে এসে পৌঁছেছে। তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া গ্রিসের ক্যাম্পে বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তারেক আলীর গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। দেশে তার স্ত্রী ও তাসনিম তামান্না নামে এক মেয়ে রয়েছে। বছর দেড়েক আগে ছুটিতে তিনি শেষ দেশে এসেছিলেন।

তারেক আলী দীর্ঘ ২৭ বছর বাহরাইনে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন। দেশটির রাজধানী মানামার কাছে ‘দ্রাইডক’ নামে একটি শিপইয়ার্ড কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ২ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারেক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও দুই বাংলাদেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে মো. আজিমের বাড়ি সন্দ্বীপে, আর মো. কামরুলের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মেয়র খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা প্রদান
পরবর্তী নিবন্ধআজ কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ মাদরাসার সালানা জলসা