বাস-ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মারা গেল বাবা-মেয়ে

সাতকানিয়ার ঘটনা গাতক বাসে আগুন সড়ক অবরোধ পুলিশের গাড়ি ভাঙুচুর

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়ায় মিনি বাসের সাথে সিএনজিচালিত ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা–মেয়ে নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আগুন দিয়ে ঘাতক বাসটি জ্বালিয়ে দিয়েছে, সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরকে ধাওয়া করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শাইর–বর বাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও তার মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত (২)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল রাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগামী একটি মিনি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেলোয়ার হোসেন ও তার মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এছাড়া দেলোয়ারের স্ত্রী ও ছেলেসহ ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আগুন দিয়ে বাসটি পুড়ে দেয় এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে করে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উত্তেজিত লোকজন তাদের ধাওয়া করে এবং হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র লুটে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের একটি দল অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আবছার জানান, মিনি বাসের সাথে ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা মেয়ে নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিনি বাসটিতে আগুন দেয়। হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উত্তেজিত লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, আতঙ্কে ৩০০ পর্যটক ছুটল সৈকতে