আনোয়ারায় মা ও দেড় বছর বয়সী মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দেয়াং বাজার সংলগ্ন সরকারি আশ্রয় প্রকল্পের একটি বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের কন্যা সুমি আক্তার (২৮) ও তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিহা।
নিহত সুমি বৈরাগ আশ্রয় প্রকল্পে স্বামী সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিজানের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামী ও তার পরিবার পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিজানকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, নিহতের স্বামী মিজানের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মা–মেয়ের মরদেহ ঝুলে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সুমি আক্তারের মা হোছনে আরা বেগম (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, তিন বছর আগে তার মেয়ের সাথে সিএনজি চালক মিজানের বিবাহ হয়। বিয়ের সময় স্বামী ২ লক্ষ টাকা যৌতুক নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে মিজান সুমিকে মারধর করে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেত। গতকাল দুপুর ১টার সময় মিজান পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ে ও তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আমাদের ফোন করে খবর দেয়।
নিহতের বড় বোন বেবি আক্তারের অভিযোগ, আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করছিল।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনার অন্যান্য বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্ত স্বামী মিজানকে পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।












