বালু লুটে মীরসরাইয়ে ‘চোর-পুলিশ খেলা’

এক গ্রুপ উত্তোলন করে, বিক্রি করে আরেক গ্রুপ

মীরসরাই প্রতিনিধি | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

প্রশাসন এক দিক দিয়ে অভিযান চালালে চোরচক্র আরেক দিক দিয়ে বালু চুরি ও বিক্রি করতে মাঠে নামে। এ যেন ‘চোরপুলিশ খেলা’। মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর, চিকনছরা, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা এবং ফেনী নদী থেকে এভাবে চলছে বালু লুট।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় ফেনী নদীর বিভিন্ন অংশে কোনো প্রকার ইজারা ছাড়াই শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এ কাজে জড়িত আছে নানা চক্র। সেখানে যেতে হলে যে সড়ক ব্যবহার করা হয় ওখানে চক্রের সদস্যরা তাদের লোক বসিয়ে রাখে। তাই প্রশাসনের কেউ গেলেই খবর চলে যায়। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সবাই উধাও হয়ে যায়। আরেক স্থান থেকে নতুন করে শুরু হয় মাটি ও বালু চুরি।

অলিনগর এলাকায় বালু উত্তোলনের সাথে স্থানীয় হক সাহেব, ফখরুল, মহিউদ্দিন, মোতাহের ও রাসেলসহ অনেকে জড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ফরেস্ট এলাকার পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয় ও শাহাদাত হোসেন সিন্ডিকেট। দক্ষিণ অলিনগর ছিকনছরা এলাকায় মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে কালা মোস্তফা, জিয়া, নাছির, নুরুল হাসনাত সিন্ডিকেট। এসব এলাকার মাটি এক গ্রুপ কেটে নেওয়ার দায়িত্বে, আরেক গ্রুপ মার্কেটিং তথা বিক্রয়ের দায়িত্বে। মাটি কাটায় ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহারেরও অভিযোগ আছে।

করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াসিন মিজান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন ও পাহাড়ের মাটি কাটার সাথে আমরা কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। বরং এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চাই। তিনি বলেন, সম্প্রতি এসিল্যান্ড অভিযান পরিচালনাকালে আমরা সহযোগিতা করেছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আলাউদ্দিন কাদের বলেন, যেখানে মাটি কাটা বা বালু উত্তোলনের খবর পাচ্ছি সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের অভিযানের সময় গোপনীয়তার চেষ্টা করে অপরাধীদের আটকের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রায় অভিযানে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে অপরাধীদের আটকের বিষয়ে আরো পরিকল্পিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, পরিবেশ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতির বিষয়ে আমরা আপসহীন। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাহাড় শেষ
পরবর্তী নিবন্ধবন্দরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার