বাবা নামের বটবৃক্ষ

রাজিউর রহমান বিতান | সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বাবার স্নেহমমতাভালোবাসা সর্বোপরি সন্তানের জন্য বিশাল আত্মত্যাগ কজন সন্তান আছে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে? বাবা যখন হারিয়ে যায় তখনই সন্তান বুঝতে পারে বাবা নামের বটবৃক্ষটি কতটা ছায়া হয়ে ছিলো মাথার উপর! জীবনের প্রচণ্ড ঝড়ঝঞ্ঝায় ছাতা হয়ে আগলে রাখেন যে মানুষটি তিনি হলেন বাবা‘! যিনি না থাকলে সন্তানের কপালে জুটে ‘এতিম’ বা ‘অনাথ’ নামের বিশেষণটি! যাদের জীবনে বাবা নামের মানুষটি এখনো জুড়ে আছেন তারা পৃথিবীতে ভাগ্যবান! বাবা থাকতে বাবাকে যথাযথ আদরকদরযত্নসম্মান আর ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখা সন্তানের জন্য কর্তব্য ও সৌভাগ্যের বিষয়! বাবাকে তাঁর প্রাপ্য যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা সন্তানের যেমনি দায়িত্ব ও কর্তব্য তেমনি জন্মসূত্রে এবং প্রকৃতিগতভাবে এটি তাঁর প্রাপ্য অধিকারও বটে। বাবাকে সন্তান দয়া বা করুণা করবে এটি কখনোই মেনে নেয়া যায় না এমনকি ভাবাও যায় না! সৃষ্টির বিধানমতে আমি পিতার সন্তান হয়েছি বলেই তিনি আমার পিতা। তাই তাঁর প্রতি যথাযথ কর্তব্য সম্পাদন এবং প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা আমার প্রতি স্রষ্টা প্রদত্ত অর্পিত বিধান। প্রকৃতির আইন। এর ব্যত্যয় ঘটানোর কোন সুযোগ নেই কোন সন্তানের! একজন সন্তানের জন্য পিতা কিংবা মাতার প্রতি কর্তব্য পালন রীতিমত সৌভাগ্যের! সৃষ্টকর্তা না চাইলে এই সৌভাগ্যের অধিকারী সবাই হতে পারে না!

তাই সময় থাকতে সন্তানের উচিৎ পিতামাতার জন্য যথাযথ দায়িত্বকর্তব্য সম্পাদন করা। এটি শুধু স্রষ্টা প্রদত্ত অর্পিত দায়িত্বই নয় বরং জীবনভর পিতামাতার দেয়া নিঃস্বার্থ আদরযত্ন আর ভালোবাসার মর্যাদা প্রদান। এটি মানবকূলে, সভ্যজগতে মানব জন্মের প্রতি ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়ানোর অপর নাম! যেখানে জন্মের দায়শোধে সন্তান অপারগ, সেখানে নিজেকে চূড়ান্ত পাপিষ্ঠরূপে চিহ্নিত করতে নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারবে মানুষ, এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, মেনে নেয়া যায় না! পিতামাতার ভালোবাসার ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না! কোন বিবেচনাতেই এটা পরিশোধযোগ্য নয়! কিন্তু তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর মমতা নিয়ে যাবতীয় করণীয়গুলো কর্তব্যজ্ঞানে সম্পাদন করাই সন্তানের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক। পিতামাতার সন্তুষ্টিতেই স্রষ্টার সন্তুষ্টি। তাই পিতা মাতাকে সবসময়ই নিজের প্রার্থনায়, নিজের শুভ কামনায় রাখতে হয়। যেমনি করে তাঁরাও তাঁদের শুভ কামনা ও প্রার্থনায় আমাদের রাখতেন বা রেখেছেন। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ আমার পিতা মাতাকে সেভাবেই রাখুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে আদর যত্নে লালনপালন করেছেন’। একজন সুসন্তান এভাবেই পিতা মাতাকে ভক্তি করে নিজেকে যোগ্য সন্তান রূপে গড়ে তুলতে পারে। এতেই নিহিত থাকে ইহকাল এবং পরকালে পরম করুণাময়ের যোগ্য প্রতিদান। আসুন মানবজন্মের ঋণ শোধ করি, সভ্যতার আলো ছড়াই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবুকের ভেতর হিংসা
পরবর্তী নিবন্ধলাইলাতুল কদর