পিরামিডের মত সূচালো শীর্ষ; আশপাশে বড় কোনো পর্বত নেই। প্রবল ঠান্ডা বাতাসের তোড়ে তাই বরফ সরে গিয়ে চূড়ার কালো অংশ বেরিয়ে পড়ে। সেই থেকে নাম তার মহা কালো বা ‘মাকালু’। এবার বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ উচ্চতার শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু অভিযানে যাচ্ছেন এভারেস্ট জয়ী ডা. বাবর আলী। এই পর্বতের অবস্থান হিমালয়ের ২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট উচ্চতায়। নেপালের মহালঙ্গুরের মাউন্ট মাকালু পরিচিত ‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ নামে। বিশ্বে আট হাজার ১৪টি পর্বতের মধ্যে মাকালু পঞ্চম সর্বোচ্চ। বাবরেরও আট হাজারি পর্বত অভিযানে এটি পঞ্চম লক্ষ্য। অভিযানের নাম তাই ‘এক্সপেডেশন মাকালু: দ্যা ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’। খবর বিডিনিউজের।
এই অভিযানে শীর্ষ ছুঁতে পারলে তা হবে কোনো বাংলাদেশি পর্বতারোহীর মাকালুতে প্রথম সফল সামিট। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। বাবর আলী বলেন, ‘আমি খুবই এক্সাইটেড, নতুন একটা জায়গায় যাচ্ছি। যদিও এটা এভারেস্ট রিজিয়নের খুব কাছে, কিন্তু লেস ক্লাইম্বড। বেস ক্যাম্পটাও লেস এক্সপ্লোরড। যারা ট্র্যাক করতে যান, তারাও খুব কম সংখ্যায় যান। মাকালু খুব পপুলার মাউন্টেনও না। এখানে অভিযানও কম হয়। সে তুলনায় নিজের সাথে একটু সময়ও পাওয়া যায় বেশি।’ এভারেস্টসহ বেশ কিছু পর্বত অভিযানে শেরপাদের জীবনযাত্রা দেখে অভ্যস্ত বাবর আলী বলেন, ‘এবার মাকালু অভিযানে ‘কিরাত’ বলে একটা কালচার দেখার সুযোগ হবে। আর আশা করব মাকালু যাতে আমায় অ্যালাউ করে। আমাদের দেশ থেকে সেখানে আগে অভিযান হলেও ক্লাইম্ব হয়নি। সবাই দোয়া করবেন, ঠিকঠাকভাবে ক্লাইম্ব করে ঠিকঠাকভাবে ফেরত আসতে পারি।’ মাউন্ট মাকালু অভিযানের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাবর আলী বলেন, ‘এই পর্বতের বেস ক্যাম্প অনেক উঁচুতে, প্রায় ৫৭০০ মিটার। আর মাউন্ট মাকালু অনেকটা আইসোলেটেড। আশেপাশে অন্য উঁচু পর্বত না থাকায় প্রচুর হাওয়া থাকে। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। খুব ঠান্ডা। আর আট হাজার মিটার যেহেতু ডেথ জোন। সেখানে পা স্লিপ করলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। আর ডেথ জোনে ক্লাইম্ব করলে যেটা হয়, ইওর বডি ইজ ডায়িং স্লোলি, যতই অক্সিজেন ব্যবহার করুন। এই চ্যালেঞ্জগুলো থাকে। আমি অনেকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করি, আমি কোনো উঁচু জায়গায় পৌঁছালে আমার দেশও খানিকটা উপরে পৌঁছায়। তাই আহ্বান থাকবে, এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসেও যাতে খানিকটা নজর দেয় সরকার।’
সংবাদ সম্মেলনে ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রেসিডেন্ট ও অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান বলেন, ‘বাবরের এই অভিযানের খরচ প্রায় ১৫ লাখ টাকা। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্বে পর্বতারোহণ ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এটা এখনো ‘বেড়াতে যাওয়া’। ফান্ডের অভাবে অনেকে সামিটে যেতে পারছে না। আশা করি সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে।’
মাউন্ট মাকালুর উদ্দেশ্যে ৭ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বেন বাবর আলী। এরপর নেপালে গিয়ে পর্বতারোহণের অনুমতি ও প্রস্তুতি শেষে দেশটির রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে টুমলিংটার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে প্রায় ১১–১২ দিন ট্র্যাক করে পৌঁছাবেন বেস ক্যাম্পে। এরপর শুরু হবে মূল অভিযান। সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে মাকালু চূড়ায় পৌঁছাবেন বাবর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের উপদেষ্টা শিহাব উদ্দিন রিয়াজ এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নিটওয়্যারের স্বত্বাধিকারী আহমেদ নূর ফয়সাল। পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স এই অভিযানের আয়োজন করছে।













