বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বুধবার বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান পরিষদের নিবার্হী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি মোতাবেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করায় তারা বিষয়গুলো দেখভাল করেন।
জানা গেছে, জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার জাতীয়করণ হওয়া ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক সমপ্রতি পাঁচ বছরের বকেয়া বেতন বাবদ জনপ্রতি ১৪ লাখ ২৪২ টাকা করে পান। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন ও অফিস সহকারী মো. ফারুক হোসেন প্রত্যেকের কাছে ৩ লাখ টাকা করে দাবি করেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
টাকা না দিলে স্থায়ীকরণসহ ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হবে বলে তারা ভয়ভীতি দেখান। শিক্ষকদের অভিযোগ, পরে ৪৩ জন শিক্ষককের প্রত্যেককে ডেকে ৩ লাখ টাকা করে আদায় করেন। খবর বিডিনিউজের।
রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের কোলমাছাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক উথোয়াইনু মারমা বলেন, ক্লাস নেওয়ার সময় মোবাইল ফোনের রিং টোন বন্ধ ছিল। ক্লাস শেষে দেখি, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারে সাতটা ফোন কল। পরে কথা বলার সময় তিনি জানান– আপনার একাউন্টে ১৪ লাখ টাকা ঢুকেছে। আমাকে ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এটি নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত বলা যাবে না; বললে চাকরি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, টাকা দিতে একদিন দেরি হওয়ায় এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছেন উনি। পরে অফিসে গিয়ে সরাসরি ৩ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। উপজেলার পুনর্বাসন স্কুলের মেবু মারমা বলেন, মে মাসে একটা ট্রেনিংয়ে ছিলাম। একজন শিক্ষক আমাদের ফোন দিয়ে বলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। না দেওয়া হলে, চাকরি সমস্যা হবে। এখনও চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। পরে দুইটা স্কুলের আটজন শিক্ষক শিক্ষা অফিসে গিয়ে ২৪ লক্ষ টাকা দিয়ে আসছি। টাকা দেওয়ার কথা জানান একই স্কুলের আরেক শিক্ষক খিনতি ত্রিপুরাও। তিনি বলেন, তাকেও সহকারী শিক্ষা অফিসার অফিসে ডেকে নিয়ে টাকার কথা বলেছেন। কাউকে জানালে চাকরির সমস্যা হওয়ার কথা বলা হয়। পরে ব্যাংকের রোয়াংছড়ি শাখা থেকে টাকা তুলে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে।
মাংস্মুই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মংবাসিং মারমা বলেন, গত ৮ মে আমাদের তিনজনকে ডাকছিল। ডেকে সরাসরি বলে, ৩ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। টাকা না দিলে চাকরি স্থায়ী হবে না। পরে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. ফারুক হোসেনের হাতে আমাদের দুজনের মোট ৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। লাপাইংগইং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কর্মমনি ত্রিপুরা বলেন, একসঙ্গে আমাদের আটজন শিক্ষককে ডেকে বলা হয়, চাকরি এখনও নড়বড়ে; স্থায়ীকরণ হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় ম্যানেজ করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। দুইটা স্কুলের আটজন শিক্ষক শিক্ষা অফিসে এক অফিস সহকারীর কাছে ২৪ লক্ষ টাকা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, পরে জানলাম, আমাদের শিক্ষকদের কেউ সরাসরি সহকারী শিক্ষা অফিসার, কেউ কেউ অফিস সহকারী ফারুকের হাতে নগদে এবং চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছেন। কয়েকজন যারা টাকা দেননি তাদেরও ফোন করে টাকা দিতে বলা হয়।












