বান্দরবানে রাজবিলায় পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং মগ ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে মগ বাহিনীর (এমএনপি) সদস্য বাসিংমং মারমাসহ দুই পক্ষের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাজবিলা ইউনিয়নের থংঝমা পাড়া এলাকায় জেএসএসের সাবেক সভাপতি নিসাঅং মারমা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মগ বাহিনীর (এমএনপি) সদস্য বাসিংমং মারমাসহ কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় নিসাঅং মারমা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন এবং ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। অপরদিকে, গোলাগুলির একপর্যায়ে মগ বাহিনীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিজেদের দলের বাসিংমং মারমা নামে এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। আহত দু’জনকে উদ্ধার করে রাজবিলা এলাকায় কোয়ান্টাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মগ পার্টির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যঅংপ্রু মারমা বলেন, শুক্রবার ভোরে স্থানীয় সাবেক জেএসএস নেতা নিসাঅং মারমাকে মারতে তার বাড়িতে হামলা চালায় মগ ন্যাশনাল পার্টির সদস্যরা। তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। এসময় নিজেদের গুলিতে একজন এমএনপি সদস্য আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষনেতা জানান, নিসাঅং মারমা তাদের রাজবিলা ইউনিয়ন কমিটির সাবেক কর্মী, তিনি পারিবারিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১০বছর যাবৎ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সাধারণ জীবনযাপন করছেন। গত শুক্রবার ভোরে মগ বাহিনী তাকে মেরে ফেলার জন্য বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রাজবিলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এনামুল হক জানান, শুক্রবার সকালে রাজবিলা ইউনিয়নের থংঝমা পাড়ায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ বলেন, গোলাগুলির ঘটনা শুনেছি। তবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।












