বাদাম চাষে সাফল্য

ফকিরার চর

আনোয়ারা প্রতিনিধি | বুধবার , ২০ এপ্রিল, ২০২২ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারা উপজেলায় চীনা বাদাম চাষে তেমন কোনো অতীত রেকর্ড নেই। গত দুই বছর ধরে এ উপজলোর বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধ শতক হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলক বাদাম চাষ শুরু করে স্থানীয় চাষিরা। এক্ষেত্রে চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা দেয় উপজেলা কৃষি অফিস। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের সাঙ্গু নদের ফকিরার চরে এবার বাণিজ্যিকভাবে বাদাম চাষ করে মিলেছে সাফল্য।

জানা যায়, ফকিরার চরে চলতি বছর ৪০ হেক্টর জমিতে কয়েক প্রকার চীনা বাদামের চাষ করেন স্থানীয় হাইলধর ইউনিয়নের চাষিরা। তার মধ্যে ত্রিদানা ও জুমকা নামের দুই জাতের বাদামের ফলন বেশি ভালো হয়েছে। এতে শতাধিক টনের বেশি বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার আশা সংশ্লিষ্টদের। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো ২২ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের সাঙ্গু নদের তীরে গডে উঠা ফকিরার চরটিতে সব ধরনের কৃষি পণ্যের উৎপাদন হয়। পলিমাটি, উপযুক্ত পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর চরটিতে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম ঝুঁকি, ব্যাপক চাহিদা ও বাজারে বাদামের ভালো দাম থাকায় গত ২ বছর ধরে বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এখানকার চাষিরা। তাছাড়া উপজেলার বরুমচড়া, চাতরি, বারখাইন, বারশত, বটতলী ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে প্রদর্শনী মূলক বাদামচাষ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম জানান, সাঙ্গু নদের মাঝখানে চরটি জেগে উঠার পর থেকে স্থানীয় কৃষকেরা এ চরে ধান, মরিচ, আলু, বেগুন, শিম, টমেটো, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্তু বিগত ২ বছর ধরে আনোয়ারা উপজলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বাদাম চাষ শুরু হয়। আর এতে আমরা ভাল লাভবান হচ্ছি।

স্থানীয় ফকিরার চরের কৃষক মো. আলমগীর বলেন, বাদাম চাষে তেমন খরচ নেই। পরিশ্রমও কম করতে হয়। তাই এ বছর ২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ভালো ফলনও পেয়েছি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, বাদাম একটি উচ্চ ফলনশীল ফসল। এটি চাষে তেমন সেচ ও পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া এ চরের মাটি বেশ উর্বর ও বাদাম চাষে উপযোগী। যার ফলে এ চরে চলতি বছর বাদামের আশানুরূপ ভালো ফলন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে এ চরে ৪০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো ২২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। আশা করি ১০০ থেকে ১৩০ টন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহিনা রব্বানি এবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসেকেন্ড টাইমের পক্ষে চবি উপাচার্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাল