বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল করার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে এই অধ্যাদেশ জারির কথা জানায়। খবর বিডিনিউজের।
অধ্যাদেশে বাণিজ্যিক বিরোধের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে উক্ত সম্পত্তি জামানত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিংবা চুক্তির কোনো এক পক্ষ সরকার, সরকারের অধীন কোনো সংস্থা, অথবা এমন কোনো বেসরকারি সংস্থা যা সরকারি কার্যাবলি পরিচালনা করে, কেবল এই কারণে কোনো বাণিজ্যিক বিরোধকে সাধারণ বিরোধ হিসাবে গণ্য করা যাবে না। এতে বলা হয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণে প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত গঠন করবে। কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে বাণিজ্যিক আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করবে এবং সময় সময় এখতিয়ারের সীমানা বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করতে পারবে।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্য থেকে বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক নিযুক্ত হবেন। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিশন শুনানির জন্য হাই কোর্টে এক বা একাধিক বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আপিল ও রিভিশন বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া এর অন্য কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে শর্ত থাকবে, বাণিজ্যিক আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির নীতি ও বিধান অনুসরণ করে রিভিশন ও রিভিউ দায়ের করা যাবে। বিরোধের যে কোনো পক্ষ বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে, তিনি ৬০ দিনের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগে আপিল বা ক্ষেত্রমত রিভিশন দাখিল করতে পারবেন।











