বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। চট্টগ্রাম থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সালাহউদ্দীন আহমেদ, পার্বত্য মন্ত্রী, দীপেন দেওয়ান ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে ও অভিনন্দন জানান নেতৃবৃন্দ।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ণ সংগ্রাম কমিটির স্থায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান এস. এম. নুরুল হক, মহাসচিব আলহাজ এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর ও অর্থ সচিব লায়ন নুরুল আলম সংবাদ পত্রে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম বারবার প্রমাণ করেছে রাষ্ট্রের সংকটে, নির্বাচনের লড়াইয়ে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই অঞ্চল কখনও পিছিয়ে থাকে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে সেই অনুপাতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমরা মনে করি চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রেখে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাসহ প্রায় ১০ জন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন জাতীয় রাজনীতিতে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব ছিল দৃশ্যমান ও কার্যকর। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে, তার পুত্র তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাঠামোয় বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ৪ জন মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন–যা এই অঞ্চলের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক অবদান ও রাজনৈতিক সমর্থনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। বৃহত্তর চট্টগ্রাম বরাবরই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা, প্রবাসী আয়ের বড় অংশ এবং পাহাড়–সমতল মিলিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ড, জাতীয় রাজস্বের সিংহভাগ যোগানদাতা এই চট্টগ্রাম–সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এই অঞ্চলের অবদান অনস্বীকার্য। সামপ্রতিক নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির একতরফা বিজয়ও প্রমাণ করে, জনগণ তাদের আস্থা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। অথচ সেই আস্থার যথাযথ প্রতিফলন আমরা মন্ত্রিসভা গঠনে দেখতে পাইনি। আমরা মনে করি, এটি কেবল সংখ্যার প্রশ্ন নয়–এটি মর্যাদা, ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্ন। চট্টগ্রামকে উপেক্ষা করা মানে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া। চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন অত্যন্ত হতাশাজনক। চট্টগ্রামবাসীর দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৯৪ সনে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালদীঘি ময়দানে জনসভায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করলেও জাতীয় সংসদ বাণিজ্যিক রাজধানী বিল পাস না করার কারনে তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি কারনে তা চট্টগ্রামবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক জিয়া পলোগ্রাউন্ড ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রুপান্তরের ঘোষণা দিলে তাতে চট্টগ্রামবাসী আবারো আশান্বিত হন। তাই এই ঘোষণার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানাই। নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামকে বারবার আশ্বাস দিয়ে অপেক্ষায় রাখা যাবে না। এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন।












