বাজার সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে হবে দেখতে হবে জনমানুষের স্বার্থ

| মঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

রমজান কড়া নাড়ছে। এখন বাজার সিন্ডিকেট তৎপর। একটা অলিখিত নিয়ম যেন আমাদের সমাজে জেঁকে বসেছে। রমজান এলেই বাজারের চরিত্র বদলে যায়। বলা হয়ে থাকে রমজান হলো সংযমের মাস। কিন্তু সেই সংযমের মাস শুরু হওয়ার আগেই ‘অসংযত’ হয়ে ওঠে দ্রব্যমূল্য। বিশ্লেষকরা বলেন, বছরের বাকি সময় যে সিন্ডিকেট আড়ালে থাকে, রমজান এলেই তারা প্রকাশ্যে মাঠে নামে। আর বাজার চলে যায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বাজার সিন্ডিকেট বাংলাদেশের নতুন কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি এক চিরচেনা বাস্তবতা। কিন্তু রোজা এলেই এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সরকারি নজরদারি দুর্বলতাও এজন্য অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করি। মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ ক্রেতার কাছে এখন আর ‘অস্বাভাবিক’ মনে হয় না, বরং মনে হয়এটাই বুঝি আমাদের নিয়তি। এই নিয়তির পেছনে আছে চাঁদাবাজি, মজুদদারি, অতিমুনাফা আর রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে টিকে থাকা এই চক্র ভেঙে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। মানুষের স্বার্থকে সবার আগে রেখে এই সিন্ডিকেট গুড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে কিছুতেই স্বস্তি মিলবে না সাধারণ ক্রেতা তথা রোজাদারদের। ডিম, মুরগি, চাল, সবজি, পেঁয়াজ, তেল, চিনিনিত্যপণ্যের তালিকা যত বড়, মূল্যবৃদ্ধির চাপও তত বিস্তৃত। দুয়েকটি পণ্যের দাম সাময়িকভাবে কমলেও তা স্থায়ী হয় না। বিশেষ করে, ডিম ও পেঁয়াজএই দুই পণ্য যেন বাজার অস্থিরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবারই অজুহাত আসেকখনও আন্তর্জাতিক বাজার, কখনও সরবরাহ সংকট, কখনও পরিবহন সমস্যা। কিন্তু এই ব্যাখ্যাগুলো যতটা বলা হয়, বাস্তবতা তার চেয়েও নির্মম।

রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মূল্যের দিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার। শুধু বাজার মূল্য নয়, জিনিসপত্র আনা নেওয়া আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়েও কাজ করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য একটি বড় ইস্যু। চেষ্টা করতে হবে কীভাবে এটাকে আয়ত্তে আনা যায়। পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কোন্‌ কোন্‌ দ্রব্যের অভাব হলে মানুষের কষ্ট হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যেমন সারের অভাব হলে কৃষকের কষ্ট হয়। তাই কোনো জিনিসের অভাব হওয়ার আগে আমরা যেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে খবর দিতে পারি যে এই পণ্যের অভাব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ বিশেষত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেসব তৎপরতা বা অভিযান বাজারকে প্রভাবিত করতে পারছে বলে এখনো অনুভূত হয়নি। মূল্য পরিস্থিতি ভোক্তার কাঙ্ক্ষিত নাগালের মধ্যেই আসছে না! ভরা মৌসুমের মধ্যে একদিকে চালের ঊর্ধ্বমূল্য, অন্যদিকে শীতকালীন শাকসবজির ভালো উৎপাদনের মধ্যে এসবের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতাকে সদম্ভে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে! এ অবস্থার মধ্যে আসন্ন রমজান মাসের সম্ভাব্য সংকটের কথা চিন্তা করে সাধারণের মধ্যে দিশাহারা মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের নানা ছলাকলা ও কারসাজির কারণে পরিস্থিতি অস্বস্তিতে পরিণত হয় কিনা রমজান মাস এলেই তা পরিষ্কার বোঝা যাবে। আপাতত আশায় বাঁচি, আশা না থাকলে বাঁচা কঠিন! সাধারণ মানুষ নানাভাবে আশায় বুক বেঁধে এবং এক ধরনের চাপা অস্বস্তি নিয়ে টিকে আছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কথিত সিন্ডিকেট কর্তৃক দ্রব্যমূল্যের অনিয়ন্ত্রিত চক্রপ্রবাহের মধ্যে পড়ে সাধারণের স্বস্তিও দুর্লভ বস্তুতে পরিণত হয়েছে! ভরসা একটাই, অন্তত সরকার বাজার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বাজার শব্দটি নিয়েই বিরাট অস্বস্তি আমাদের। আসন্ন রমজান আমাদের সামনে বাজারকে তীব্র রকমের অস্বস্তিকর করে তুলবে বলে সবার আশঙ্কা। এরই মধ্যে ছোলা ও খেজুরজাতীয় খাদ্যপণ্যের ওপর রমজানের আবহ শুরু হয়ে গেছে! রমজানের সময় যেসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তার দাম যেন সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রমজানের আগে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসুকসেই প্রত্যাশা সকলের।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে