বাচ্চু নিজ হাতে একুশে পদক নিতে পারলে অনুভূতি অন্যরকম হত : স্ত্রী

| শুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ

মরণোত্তর একুশে পদক পাওয়ার খবরে আবেগে ভেসে না গেলেও গভীর তৃপ্তির কথা বলেছেন প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। তার ভাষায়, একুশে পদক একজন শিল্পীর জন্য বিশাল সম্মান, আর সেই সম্মান যোগ্য মানুষের হাতেই পৌঁছাচ্ছে, এই বিশ্বাসই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। তবে বাচ্চু নিজ হাতে এই পুরস্কার নিতে পারলে সেই অনুভূতি অন্যরকম হত বলে মনে করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

রুপালি গিটার’, ‘ঘুম ভাঙা শহর’, ‘সেই তুমি’, ‘এক আকাশের তারা’ এমন সব গানে বুঁদ হয়ে ছিল একটি প্রজন্ম। কিছু গান তকমা পেয়েছে চিরসবুজ হিসেবেও। যার অসাধারণ কণ্ঠ আর গিটার বাদনে ছড়িয়েছে এসব গান, সেই আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর পৃথিবীর মায়া কাটান।

সংগীতে অবদান রাখার জন্য চলতি বছরে একুশে পদক পাচ্ছেন আইয়ুব বাচ্চু। এই সম্মাননা পাওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় চন্দনা বলেন, খবরটি শুনে ভালো লাগল, একুশে পদক তো বিশাল পাওয়া একটা শিল্পীর জন্য। আমি তো কোনো শিল্পী না। যারা গান গায়, দেশের শিল্পমনার যারা আছে, তাদের জন্য এই পুরস্কার বড় সম্মানের। বাচ্চু নিজ হাতে নিতে পারলে তার অনুভূতি হয়ত অন্যরকম হত। এই পদক তো যোগ্য মানুষকে খুঁজে দেয়। বাচ্চু ওরকম ছিল, তাই সে একুশে পদক পাচ্ছে ভালো লাগল শুনে।

বাচ্চু পুরস্কার নিয়ে কখনো আফসোস করেননি বলে জানান চন্দনা। বাচ্চু জীবদ্দশায় কখনো পুরস্কার নিয়ে আফসোস করেনি। হঠাৎ হঠাৎ বলত। মারা যাওয়ার পরে সে পেয়েছে। বাংলাদেশে মরণোত্তর পুরস্কার পায় এটা স্বাভাবিক নিয়ম, ভালো লাগল। তবে এই খবরে একদম পাগল হয়ে গেছি সেটা বলব না। পাগল হওয়ার মত আমার আর কিছু নেই এখন। যোগ্য মানুষকে খুঁজে এখনো যে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এটা ভালো লাগার।

আইয়ুব বাচ্চুর রেখে যাওয়া গিটারসহ অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে একটি জাদুঘর নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন প্রয়াত এই ব্যান্ডশিল্পীর স্ত্রী চন্দনা। এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে সেই স্বপ্নের পথ কিছুটা সহজ হচ্ছে কী না প্রশ্নে চন্দনা বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল বাচ্চুর গিটার নিয়ে মিউজিয়াম করার। যেখানে শুধু গিটার শো হবে না, ওটার ভেতর ইনস্টিটিউটের মত গিটার বাজানো শেখানো হবে, গিটার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রতিযোগিতা হবে। ওগুলো তো আসলে স্বপ্ন, বাস্তবায়ন অনেক কঠিন।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার তো অর্থ নাই অত, আর এমন উদার মনের নাই যে কেউ এগিয়ে আসবে আমাকে ওটা করার জন্য। অনেকে মনে করেন মহিলা মানুষ কী করবে। আমি আমার কাজ থামিয়ে দেব না মৃত্যু পর্যন্ত, চেষ্টা করব কাজটি করে যেতে। তাই এই পদকের সাথে ওটার কোনো সম্পর্ক নেই। এই পদকটা পেয়েছে আমি খুশি হলাম, আমাকে আরও শক্ত করল যে, আমার কাজটা তাহলে থেমে থাকবে না, আমাকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

বাচ্চুর শ্রোতাদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, দেশের মানুষ, বাচ্চুকে যারা ভালোবাসেন, তারা যদি আমাকে মনের দিক থেকে সাহস দেয় যে, আমরা ক্ষুদ্রভাবে হলেও আপনার সাথে আছি, এটুকুই আমার জন্য বড় পাওয়া। কারণ বাচ্চু তো গানের মানুষ ছিল, ও তো অর্থের দিকে ছিল না। ও কিছু গান দিয়ে গেছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য। ব্যক্তি বাচ্চুকে হয়ত দর্শক পাবে না, কিন্তু তার গানগুলো তো আছে, বাচ্চুকে যেন সবাই দোয়ায় রাখে সেটাই প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচন্দনাইশে বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দীনকে টানা দ্বিতীয় দিন শোকজ
পরবর্তী নিবন্ধএকুশে পদক পাচ্ছেন আইয়ুব বাচ্চুসহ ৯ ব্যক্তি ও এক ব্যান্ড