উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঢোল বাদক ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত লোকশিল্পী বিনয়বাঁশী জলদাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শিল্পীর কৃষ্টি সংস্কৃতিকে লালন ও সৃজনের প্রয়াসে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে বোয়ালখালীতে বিনয়বাঁশীর বাস্তুভিটায় তার সমাধি প্রাঙ্গণে। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে, ঘাত প্রতিঘাত, স্বপক্ষে বিপক্ষে মতামত, ঐক্য অনৈক্যর মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা বিনয়বাঁশীর তৃতীয় সন্তান আন্তর্জাতিক ঢোলবাদক শিল্পী বাবুল জলদাস এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বাবুল জলদাসের দ্বিতীয় সন্তান শিল্পী বিপ্লব জলদাস।
পরিচালক শিল্পী বিপ্লব জলদাস জানান, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অসামপ্রদায়িক মনমানসিকতা সম্পন্নদের নিয়ে গড়া। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের লালনে সৃজনে পথ চলেছে সংগঠনের সদস্যরা। উদ্দেশ্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে মেধা ও সৃজনশীল আগামী প্রজন্ম গঠনে অবদান রাখা। পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ঐতিহ্যমণ্ডিত বাঙালিয়ানা সমৃদ্ধ বাদ্যযন্ত্র বাদন শিল্পের অনুশীলন অব্যাহত রেখে বাঙালি সংস্কৃতিতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে চলেছে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী।
শুরুতে বাংলার লোকশিল্প বাংলার ঢোল বিভাগ দিয়ে শুরু হলেও ক্রমান্বয়ে সঙ্গীত বিভাগ, আবৃত্তি বিভাগ, নৃত্য বিভাগ নিয়ে সংগঠনটি পথ চলছে। বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান যেমন বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস এবং বিনয়বাঁশী জলদাসের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন মনিষীদের জন্ম মৃত্যু দিবস পালন করে থাকে। বোয়ালখালীতে ২০১৬ সালের ২২ জুলাই প্রথম শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি কর্মশালা শুরু করে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী। কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন নরেন আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক মিসফাক রাসেল। শুধু বোয়ালখালীতেই শুধু নয় সমগ্র চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও বাংলা ঢোল বাদনের জন্য ডাক পড়ে এই সংগঠনের। এ প্রতিষ্ঠানের শিল্পীবৃন্দ ১৯৯৯ সালে লন্ডনে, ২০০৪ সালে জার্মানিতে, ২০১০ সালে আমেরিকায়, ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কয়েকবার বাংলা ঢোল বাদনের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলা সংস্কৃতির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
প্রাক্তন সংস্কৃতি মন্ত্রী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নুরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধিতে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। সবকিছুর মূলে বিশেষভাবে সবসময় সহযোগিতা করে থাকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা) এর নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্তের নাম উল্লেখ করতেই হয়। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে সংগঠনের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রণব রাজ বড়ুয়াকে সভাপতি ও বিপ্লব জলদাসকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা, পৃষ্ঠপোষক কমিটি সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।












