ইয়াবাকাণ্ডে বরখাস্ত হয়েছেন বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য। একইসাথে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একজনকে বরখাস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর নতুন ব্রিজ এলাকায় পরিচালিত ওই চেকপোস্টে তল্লাশির সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে চেকপোস্টে কর্মরতরা তাকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে সেই ইয়াবা গায়েব করে আত্মসাৎ করা হয়। ঘটনার ব্যাপারে দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর গতকাল সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একজনের ব্যাপারে পুলিশ সদরদফতরে চিঠি দিয়েছেন।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল–আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), এএসআই সাইফুল আলম, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা। বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীরের বরখাস্তের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্য করার অভিযোগে পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি–৮৮০ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ চেকপোস্টে মাদক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা উঠে আসায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিশনার ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বরখাস্তের আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় বাকলিয়া থানার অংশে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাসটি ওই দিন রাত ১০টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসে। তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক যাত্রীকে আটক করে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে নয়টি বক্সে মোট ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইমতিয়াজ নিজেকে পুলিশ সদস্য এবং কক্সবাজারে কর্মরত বলে জানান। কিন্তু চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকৃত ইয়াবার ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজেরা আত্মসাৎ করেন। ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হন।
কোনো ধরনের ছুটি না নিয়ে তিনি ইয়াবাভর্তি লাগেজসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। নতুনব্রিজ এলাকায় তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয় এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বরখাস্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে নিয়মিত হাজিরা ও রোলকল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা পাওয়া পুলিশ কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি পুলিশ লাইনে রয়েছেন। এখনো ইমতিয়াজকে বরখাস্ত করা হয়নি।











