বাকলিয়ায় আধুনিক এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধন

১০ ওয়ার্ডে প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়ক আলোকিত করা হবে : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘বিদ্যুৎবাতি উন্নয়ন কার্যক্রম’এর দুটি উপপ্রকল্পের আওতায় নগরের ১০টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়ক আলোকিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একইসঙ্গে নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শহরকে আধুনিক আলোকায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি গতকাল শুক্রবার বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকায় আধুনিক এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এম এ শুক্কুরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন আব্দুর রহমান, হারুনুর রশিদ তালুকদার, এডভোকেট মোহাম্মদ আজিজুল হক এবং বাকলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মো. মুছা।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ ও স্বস্তিকর চলাচল নিশ্চিত করতে অন্ধকারমুক্ত নগরী গড়ে তোলা আমাদের অঙ্গীকার। আধুনিক এলইডি আলোকায়ন প্রকল্প সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব এলইডি বাতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই এবং সড়ককে পর্যাপ্তভাবে আলোকিত করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, নগরের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব সড়কে আধুনিক আলোকায়ন ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই আলোকায়ন ব্যবস্থাকে আমরা স্মার্ট নগরী গড়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছি। এটি শুধু নগরের নিরাপত্তা বাড়াবে না, একই সঙ্গে নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি মেয়র দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আমাদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শীত মৌসুমে সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টের মুখোমুখি হয়। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম একটি বন্দরনগরী হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও এখনো অনেক মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছে। শীতের এই সময়ে একটি কম্বল বা শীতবস্ত্র একজন মানুষের জন্য স্বস্তি ও নিরাপত্তার বড় মাধ্যম হতে পারে। তাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিতভাবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

মেয়র বলেন, নগরকে স্মার্ট ও আধুনিক করতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। আলোকায়ন, সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা্তসব কিছুর পাশাপাশি সামাজিক সহমর্মিতা ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই একটি টেকসই ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শীতে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি মানবিক ও কল্যাণকামী চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসেই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শাশুড়ির মামলা
পরবর্তী নিবন্ধহ্যাঁ ভোটে স্বৈরাচারকে লালকার্ড দেখাবে মানুষ : শফিকুল আলম