মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা মিঞা জাহিদুল ইসলাম আরেফীকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) কে এন রায় বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
শনিবার বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষের পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আরেফী। তিনি নিজের পরিচয় দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে দেখা যায়, মিঞা আরেফী ইংরেজিতে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার হাতের ডান দিকে বসে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক হোসেন।
আরেফী দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার কঠোর ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ নভেম্বরের পর আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র এবার পুলিশ ও আনসারসহ বিভন্ন বাহিনীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপি অফিসে মিঞা জাহিদুল ইসলাম আরেফী, যিনি নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা দাবি করেছেন। ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি নয়া পল্টনে গিয়েছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলি বলেন, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেউ নন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে কারও যাওয়ার তথ্য পুরোপুরি মিথ্যা।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তার সম্পর্কে বিএনপির কাছে কোনো তথ্য নেই। বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই ব্যক্তি পররাষ্ট্র নীতি–নৈতিকতা কতখানি লংঘন করেছেন, সেই প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে। আর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ওই মার্কিন নাগরিককে ইসরায়েলের এজেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।












