বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথে সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা বিএসএফের!

| শুক্রবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি পাহারায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিষাক্ত সাপ ও কুমিরের মত প্রাণী ছাড়ার কথা ভাবছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘দ্য ফেডারেল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানো নিয়ে বহু বছর ধরে সমালোচনা হয়ে আসছে।

এবার সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কার্যকলাপ রোধ করতে যেসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না, সেসব ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ এবং জলাভূমিগুলোতে বিষাক্ত সাপ, কুমিরের মতো সরীসৃপ ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা বলা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।

বিএসএফ গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে শুরু করেছে। এমনিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্তে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলো বহুমুখী এবং জটিল। সীমান্ত সুরক্ষার কথা বলে বিএসএফ অনেক জায়গাতেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, সীমান্তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে নজরদারি ড্রোন, জিপিএসসমর্থিত ট্র্যাকিং ও লোকেটিং গ্যাজেট এবং থার্মাল ইমেজারএর মতো উন্নত প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের মত রাজ্যগুলোতে সীমান্তের কিছু অংশ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে; যাতে মানুষের অবৈধ চলাচল ঠেকানো যায়। কিন্তু সীমান্তের জলাভূমির অংশে তা সম্ভব না হওয়ায় সাপ ও কুমিরের ভাবনা আসে বিএসএফ কর্মকর্তাদের মাথায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে ২০ মার্চ বিএসএফের নয়াদিল্লি সদর দপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের আরেকটি বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। এর পরপর মাঠপর্যায়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়।

দ্য ফেডারেল’ ওই লিখিত বার্তার একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে পূর্ব ও উত্তরপূর্ব ভারতের সমস্ত সেক্টর হেডকোয়ার্টারকে সীমান্তের নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনার ওপর গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাপ ও কুমির ব্যবহারের প্রস্তাব ছাড়াও ২০ মার্চের বৈঠকে বিএসএফের পূর্ব অঞ্চলের সেক্টর হেডকোয়ার্টারগুলোকে মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগহীন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের সীমান্ত আউটপোস্টগুলো চিহ্নিত করা এবং ম্যাপ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সাপ ও কুমির ধরার কাজ কারা করবে এবং সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ সরীসৃপ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সীমান্ত রাজ্যগুলোর কোন নদীপথগুলোতে সাপ ও কুমির ছাড়া হবে, তাও জানা যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীকে সেইফ সিটিতে পরিণত করতে চাই
পরবর্তী নিবন্ধঅস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে যা জানালেন আজহারী