বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নাটকীয় ‘টাই’

নারী ওয়ানডেতে দেশের প্রথম সেঞ্চুরি ফারজানার

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ২৩ জুলাই, ২০২৩ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশভারত নারীদের ওয়ানডে সিরিজের আগের দুটি ম্যাচে ছিল সমতা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত জয়লাভ করে সিরিজ ১১ করে নেয়। ফলে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয় তৃতীয় ম্যাচটি। গতকাল সে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি নাটকীয় টাই এ পরিণত হয়।

তখন চার বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১ রান। বাংলাদেশের দরকার ১ উইকেট। মারুফা আক্তারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিলেন মেঘনা সিং। বল আশ্রয় নিল কিপারের গ্লাভসে। আউটের সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগেই উদযাপন শুরু করলেন কিপার নিগার সুলতানা। পরে আঙুল তুললেন আম্পায়ার। মেঘনা তাতে অবাক। আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ নির্ধারণী এ ম্যাচে অনেকটা হারের দুয়ার থেকে ‘টাই’ করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ৪ উইকেট হারিয়ে করা ২২৫ রানের জবাবে ভারত গুটিয়ে গেল সমান স্কোরেই। ম্যাচ একসময় ছিল ভারতের প্রায় মুঠোয়। কিন্তু স্রেফ ৩৪ রানে শেষের ৬ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৮ বলে যখন প্রয়োজন ৮ রান, মেঘনার বাউন্ডারিতে ম্যাচ অনেকটা হেলে পড়ে ভারতের দিকে। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৩ রানের। মারুফা আক্তারের প্রথম দুই বলে একটি করে রান নেন মেঘনা ও জেমিমা রদ্রিগেস। পরের বলেই মেঘনার বিদায়ে নাটকীয় সমাপ্তি।

মেয়েদের ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ‘টাই’ এটি। সব মিলিয়ে এই সংস্করণে ‘টাই’ হওয়ার নবম ঘটনা ম্যাচটি। আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত এই সিরিজের তিন ম্যাচ থেকে দুই দলই পেল সমান ৩টি করে পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে ভারত।

গতকাল ইতিহাসের অংশ হয়েছেন ফারজানা হক। এই সংস্করণে দেশের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন অভিজ্ঞ এ ব্যাটার। ১৬০ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ৭ চারে তিনি করেছেন ১০৭ রান। সেঞ্চুরির আগের দুই ম্যাচে ২৭ ও ৪৭ রানের ইনিংস খেলার সৌজন্যে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন ফারজানাই। তবে শেষ ম্যাচের সেরার স্বীকৃতি পাননি তিনি। ৭৭ রানের ইনিংসে ভারতকে জয়ের আশা দেখানো হার্লিন দেওলের হাতে ওঠে পুরস্কারটি।

ইনিংস সূচনার সুযোগ পেয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন ফারজানা ও শামিমা সুলতানা। বড় জুটি গড়লেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি দুই ওপেনার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি ছুঁয়ে ২৭তম ওভারে শামিমা আউট হন ৭৮ বলে ৫২ রান করে। ফারজানার নামের পাশে তখন ৮০ বলে ৩১ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানের পালে হাওয়া লাগে। নিগার ও ফারজানা মিলে ৮৫ বলে যোগ করেন ৭১ রান। যেখানে অগ্রণী ভূমিকা ফারজানার। শামিমার বিদায়ের পর হাত খোলেন তিনি। দশম ফিফটি ছুঁতে তিনি খেলেন ৯৭ বল। ফিফটি ছোঁয়ার পর রানের গতি আরও বাড়ান ফারজানা। চতুর্থ উইকেটে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা সোবহানা মোস্তারি। স্রেফ ৪৫ বলে আসে এই জুটির পঞ্চাশ রান। ওয়ানডেতে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে তিনটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পেল বাংলাদেশ। ৪৮তম ওভারে শেফালির বলে দারুণ কাভার ড্রাইভ বাউন্ডারিতে স্বপ্নের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফারজানা। ইনিংসের শেষ বলে রানআউটে থামে তার ম্যারাথন ইনিংস। ভারতের পক্ষে ২ উইকেট নেন স্নেহ রানা। দেভিকা বৈদ্যর শিকার একটি।

রান তাড়ায় পাঁচ ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারায় ভারত। এরপর দলকে পথে ফেরান স্মৃতি ও হার্লিন। ১০৭ রানের জুটি গড়েন তারা। কিছুক্ষণ পর নামে বৃষ্টি। প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। পুনরায় খেলা শুরুর পর জয়ের খুব কাছে চলে যায় সফরকারীরা। কিন্তু শেষ ব্যাটার মেঘনার হারে শঙ্কা ছাপিয়েই আনন্দচিত্তে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ দল। বাঁহাতি স্পিনে ৩টি উইকেট নেন বাংলাদেশের নাহিদা। মারুফার শিকার ২টি। প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হন ভারতের হার্লিন দেওল। প্লেয়ার অব দা সিরিজ হন বাংলাদেশের ফারজানা হক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদা না পেয়ে বান্দরবানে ৩ শ্রমিককে অপহরণ
পরবর্তী নিবন্ধবাসের ধাক্কায় ওয়াসার পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত