ভারতকে হারানোর পর বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলারের তৃপ্তিই বেশি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দল দৃঢ়তা দেখিয়েছে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ। পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব–১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে ২–০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দুটি গোলই হয় প্রথমার্ধে। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় জয়ের তৃপ্তি থাকলেও বাটলার মেনে নিলেন, শুরুতে নড়বড়ে ছিল দল। ‘মেয়েরা অসাধারণ মানসিকতা এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমাদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। কিছু ছোটখাটো চোট ছিল, কয়েকজনের ব্যথা ছিল, যেমনটা ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়, আমরা প্রথম দিকের হালকা ঝড়, চাপ, যা ইচ্ছা তাই বলুন, আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি।’ ‘ওই সময়ও ভেবেছিলাম আমরা চালিয়ে যাব এবং সত্যিই খুব ভালোভাবে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। ম্যাচে ভারতের অবশ্যই গোলের সুযোগ তৈরির মুহূর্ত ছিল, আমি বলতে চাইছি, তাদের কিছু সত্যিই ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমি মনে করি, তারা আমাদের চেয়ে লম্বা, শারীরিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী। আমাদের মেয়েরা তুলনামূলকভাবে তাদের চেয়ে ছোটখাট গড়নের এবং দুর্বল। তবে, আমরা মানসিক শক্তি দেখিয়েছি এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছি, আমি মনে করি, আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম।’ প্রথমার্ধের শেষ দিকে মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে এবং দ্বিতীয়ার্ধে সুরভি আকন্দ প্রীতি, জয়নব বিবি রিতা ও তৃষ্ণা রানীকে তুলে নেন বাটলার। সুযোগ দেন প্রতিমা মুন্দা, শান্তি মার্দি, বন্যা খাতুন, মৌমিতা খাতুন ও মিরা খাতুনকে। চোট সমস্যার কারণে নিয়মিতদের তুলে নিতে হয়েছিল বলেও জানলেন এই ইংলিশ কোচ। ‘আমার মনে হয় না, আমি স্ট্রাইকারদের তুলে নিয়েছি। চোট সমস্যা ছিল দলে। সুরভির চোট ছিল। প্রীতি, তৃষ্ণাও একটু আঘাত পেয়েছিল, কিন্তু ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আমি তাদের তুলে নেইনি। ম্যাচের আগে ক্রানুচিংয়ের ঘাড়ে ব্যথা ছিল, তাই সে লড়াই করছিল বলে তাকে তুলে নিয়েছিলাম। কাকে তুলে কাকে নামব, এ নিয়ে আমি একটু দোটনায় ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা দুটি পরিবর্তন করেছি। আমার মনে হয়েছে, মামনি রাইট ব্যাক ঠিকঠাক কাজ করছে না। যদি কেউ আমার হয়ে খেলতে চায়, তাহলে তাকে রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক দিকটিও দেখতে হবে। যদি না পারে, আমি তাকে টানব না; গত দুই বছরে আমি এটির উপর জোর দিয়েছি। রক্ষণের দায়িত্বের প্রশ্নে–যাদের দিয়ে হবে না, আমি তাদের বয়ে বেড়াব না। তাই সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’












