বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রভাব মোকাবিলা

| বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রির বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বরাত দিয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাব দেবে ওয়াশিংটন। খবর বিডিনিউজের।

রয়টার্স লিখেছে, চব্বিশের অভ্যুত্থানে ভারতঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হাসিনা এখন নয়া দিল্লিতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তার প্রস্থানের পর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমতে থাকায় চীন তার প্রভাব আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পায়।

সম্প্রতি ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে চীন, যা মার্কিন কূটনীতিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও বাংলাদেশ আলোচনা করছে।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন রয়টার্সকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের মিত্রদের সরঞ্জাম, যা চীনের সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হতে পারে। রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে দেওয়ার কথা ভাবছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি রাষ্ট্রদূত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়। শেখ হাসিনার শাসন অবসানের পর নয়াদিল্লিঢাকা সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব দুই দেশের ভিসা সেবা ও ক্রিকেট সম্পর্কেও পড়েছে।

বাণিজ্য কূটনীতিতে অগ্রাধিকার : ক্রিস্টেনসেন বলেন, বহু মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, তবে তারা চায় নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিক যে তাদের আমলে বাংলাদেশ হবে ব্যবসাবান্ধব। তিনি বলেন, বাণিজ্য কূটনীতি আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে, আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে তা আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

রয়টার্স লিখেছে, জ্বালানি কোম্পানি শেভরন বহু বছর ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি ততটা দৃশ্যমান নয়। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকে নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র সে সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা : বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে বড় দাতা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বড় অনেক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটি ডলারের একটি অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে, যার লক্ষ্য এ ধরনের সহায়তার কার্যকারিতা বাড়ানো। বাংলাদেশও এর আওতায় রয়েছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই প্রচেষ্টার মূল ভার যুক্তরাষ্ট্র একা বহন করতে পারবে না। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা বাড়াতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। ফলে খাদ্য রেশন কমানো হয়েছে এবং কিছু স্কুল বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪৮ ঘণ্টার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় টমটম চালকের মৃত্যু