বাংলাদেশে আর কেউ আ. লীগ হতে পারবে না

রাঙামাটিতে সমন্বয় সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | শুক্রবার , ৭ নভেম্বর, ২০২৫ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিএনপিজামায়াতের লোকদের রাজনীতিতে ত্যাগ ছিল। বাংলাদেশের একটা গ্রাম দেখাতে পারবেন না যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা ছিল না। এই মানুষগুলোকে উদ্ধার করা এখন আমাদের দায়িত্ব। আপনাদের রক্ত, ত্যাগ, শ্রম, জেলজুলুম বিক্রি করে একটা পক্ষ হয়েছে, যারা চাঁদাবাজি ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। যারা রাতে ঘুমাতে পারেন নাই, বছরের পর বছর জেল খেটেছেন, গণতন্ত্র ভোটের অধিকারের জন্য আমরা তাদের সম্মান জানাই। এ বিষয়টাকে আমরা ধারণ করি, কিন্তু আপনি যে পার্টি করছেন, তারা ধারণ করে না। আপনি চলে আসেন আমাদের কাছে, আমরা আপনাকে সম্মান দেব। বাংলাদেশে আর কেউ আওয়ামী লীগ হতে পারবে না। আমরা হতে দেব না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাঙামাটি জেলা শহরের কে কে রায় সড়ক কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়ামে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের অনেকেই বলে চিলড্রেন পার্টি। আমরা চিলড্রেন পার্টিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি জুলাই সনদে সিগনেচার (স্বাক্ষর) করব না। সিগনেচার করে আমরা তো গোপনে কাঁদতেও দেখেছি। আমরা যে কথা বলছি, দিনশেষে তো সেখানেই আসছেন। আপনাদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটার প্রতি আমরা মর্যাদা দিই। আপনি রাস্তাটা হয়তো চিনেন, কিন্তু কিভাবে দৌঁড়াতে হয় সেটা আমরা জানি। চলেন আপনারা আমাদের রাস্তা দেখান আর আমরা দৌঁড়াব। এক সঙ্গে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।

এনসিপির রাজনৈতিক দলের জোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কোনো চাঁদাবাজ, মাফিয়া, যারা সংস্কার ও জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কোনো জোট করব না। কিন্তু যারা সংস্কারের পক্ষে আছে, আমাদের সঙ্গে জোট করতে চায় তাদের জন্য আমরা দরজা উন্মুক্ত রেখেছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা বলেন, সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে সংস্কারের পক্ষে গণভোট অর্ডার করতে হবে এবং সেই অর্ডার ড. ইউনূসকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। চুপ্পুর হাত থেকে কোনো ধরণের জুলাই সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। চুপ্পুর হাত থেকে জুলাই সার্টিফিকেট নেওয়ার থেকে সবাই একসঙ্গে বিষ খেয়ে মরা ভালো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলা নিয়ে যৌথ এই সমন্বয় সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মনজিলা ঝুমা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে যে ইস্যুগুলো নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে, যেখানে এনসিপি তাদের অবস্থান, নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে জানান দিতে পেরেছে। আমরা মধ্যপন্থার একটি রাজনৈতিক দল। আমরা চেষ্টা করছি এখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে চলার জন্য। দল যদি চায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি খাগড়াছড়ি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হবো। সমন্বয় সভায় এনসিপির রাঙামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী বিপিন জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেনএনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবায়ের আরিফ, ইমন সৈয়দ, কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং খাগড়াছড়ির প্রধান সমন্বয়কারী মনজিলা ঝুমা, বান্দরবান জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুর রহমান সোহেল, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাজমুল হক, শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহবায়ক কলিন চাকমা প্রমুখ।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১২টার পর মাইক্রোবাস যোগে চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি আসেন হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সমন্বয় সভা বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এনসিপি নেতারা দেরিতে আসায় বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে বিকাল পৌনে ৫টায় শেষ হয়। সভায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন তারা। এতে এনসিপি ছাড়াও ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিক শক্তির নেতারা নিজেদের মতামত, বক্তব্য ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুদকের মামলায় এস কে সুরের বিচার শুরুর আদেশ
পরবর্তী নিবন্ধপ্রাথমিকের ১০,২১৯ সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ