যথা সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় বাংলাদেশে আইপিএল সমপ্রচারের জন্য করা চুক্তি বাতিল করেছে ভারতীয় শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান জিওস্টার। এই খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের খেলার কথা ছিল এবারের আসরে। পরে ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে তাকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। দেশে আইপিএলের সমপ্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয় তখন। পরে বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত শনিবার ‘আইপিএল সমপ্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা’ পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়ে বলা হয় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওপর। এবার জিওস্টার চুক্তি বাতিল করায় বাংলাদেশ সরকার যদি সিদ্ধান্ত পাল্টায়ও, তারপরও বাংলাদেশে স্থানীয় কোনো ব্রডকাস্টারের আইপিএল দেখানোর সুযোগ থাকল না। ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশে আইপিএল দেখানোর জন্য জিওস্টারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের ব্রডকাস্টার টি–স্পোর্টস। তবে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাদের পাঠানো এক চিঠিতে জিওস্টার ‘তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করার’ কথা জানায়। জিওস্টারের দাবি, টি–স্পোর্টস চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো অর্থ দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আম্বানির রিলায়েন্স ও ওয়াল্ট ডিজনির যৌথ উদ্যোগ জিওস্টারের মন্তব্য পায়নি রয়টার্স। টি স্পোর্টসের শীর্ষ দুই কর্তা ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে। টি–স্পোর্টসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, জিওস্টারের সঙ্গে তাদের কেবল ডিজিটাল চুক্তিই ছিল এবং তারা নিজেরাই সেটি বাতিলের অনুরোধ করেছিলেন। ‘টি–স্পোর্টস কোনোদিনই সরাসরি আইপিএলের রাইটস কেনেনি টিভিতে খেলা দেখানোর জন্য। বরাবরই থার্ড পার্টি কোনো এজেন্সি বা কোম্পানি রাইটস কিনত এবং তারা আমাদের স্ক্রিন ভাড়া নিয়ে খেলা দেখাত। গতবার যেমন এটা কিনেছিল টিএসএম (টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং) এবং আমাদের টিভিতে দেখিয়েছিল। উনাদের (জিওহটস্টার) সঙ্গে কখনোই আমাদের চুক্তি ছিল না। কাজেই আমাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বাস্তবতাই নেই।’ ‘তবে হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে তাদের ডিজিটাল চুক্তি ছিল, ওটিটি রাইটসের জন্য। এটা আমরা ডিজকন্টিনিউ করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। ওরা ওদের চুক্তির ধারা অনুযায়ী আমাদেরকে অনুরোধ করেছিল চালিয়ে যেতে। কিন্তু আমাদের সরকার যেহেতু আইপিএল প্রচারের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আমরা ওদেরকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমাদের দিক থেকে এটা চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ পুরোনো কোনো অর্থ বকেয়া নেই বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন টি স্পোর্টসের ওই কর্মকর্তা। গত শনিবার শুরু হয় আইপিএলের নতুন আসর।












