বাংলাদেশের ৬ জাহাজ শিগগির হরমুজ পার হবে, আশা ইরানি রাষ্ট্রদূতের

জানালেন বাংলাদেশের দেওয়া দুই বিবৃতিতে মনঃকষ্ট পাওয়ার কথা

| বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধের মধ্য পারস্য উপসাগরে থাকা ছয় বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত সময়ে হরমুজ প্রণালী পার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী। গতকাল বুধবার দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরফে জাহাজগুলো পার করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হলেও স্পেসিফিকেশন না থাকায় সেগুলো চিহ্নিত করতে পারেনি তেহরান। এরপর গত সপ্তাহে পাওয়া তথ্য নিয়ে এখন জাহাজগুলো পার করার প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো সত্ত্বর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে এবং বাংলাদেশের জ্বালানির কোনো সংকট থাকলে সেটার সমাধান হবে। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানি বাজার। জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই তেল ও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তীব্র বিমান হামলার মধ্যেও অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পারস্য উপসাগরের এই জলপথ অতিক্রম করতে দেয়নি তেহরান। কেবল ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজকে পার হতে দেওয়ার কথা বলছে তারা।

ইরান একাধিকার বলেছে, তাদের শত্রুপক্ষ ও শত্রুকে সহায়তা দেওয়া দেশের বাইরে অন্যরা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। হরমুজ প্রণালি পার হতে দেওয়ার তালিকায় বাংলাদেশ থাকার কথা কয়েকদিন আগে বলেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে পার করার প্রক্রিয়া তুলে ধরে এক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ছয়টা জাহাজের কথা আমাদেরকে জানানো হয়েছে। আমরা তেহরানকে এটা জানিয়েছি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এই জাহাজগুলোকে সহায়তা করার। কিন্তু এই জাহাজগুলোর যে স্পেসিফিকেশন, সেটা একদম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের হাতে না আসার কারণে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি নাই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ যে স্পেসিফিকেশন, জাহাজের যে নম্বর থাকে, সেই নম্বর এবং কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে, কোন রুটে আছে, সবগুলো আমরা চেয়েছিলাম, সেগুলো আমরা পেয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।

জাহাজের বিস্তারিত তথ্য গত সপ্তাহে হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা আমরা তেহরানে পাঠিয়েছি এবং কাজ চলছে। বাংলাদেশের এই জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নাই, এ ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বাংলাদেশের আমাদের বন্ধু, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের সাথে, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমপ্রতি এ কথাটা বলেছেন, আপনারা দেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা যতদিন আছি, আমরা এটা কোনো দিন হতে দেব না যে এই অঞ্চলে আমাদের মুসলিম ভাইদের বিন্দুমাত্র কষ্ট ভোগ করতে হয়। তারপরও যদি অনিচ্ছাকৃত কোনো অসুবিধা হয়ে যায়, তাহলে আমরা আশা করি, যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটা এই দেশের মানুষ বুঝবে।

অস্পষ্ট বিবৃতি নয় : ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর বাংলাদেশের দেওয়া দুই বিবৃতিতে মনঃকষ্ট পাওয়ার কথা বলেছেন ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী। বুধবার ঢাকার দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ধরনের অস্পষ্ট বিবৃতি না দিয়ে ঢাকার কাছ থেকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা আশা করে তেহরান। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার যে বিবৃতিগুলো দিয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু কষ্টের জায়গা আছে। যখন আমরা দেখতে পাই যে, স্পেনের মত আরও অনেক ইউরোপীয় দেশ এবং আমেরিকার ভেতরেও জনগণের বিশাল বিশাল মিছিল এবং সেখানকার কর্মকর্তারা এই যুদ্ধকে সরাসরি নিন্দাবাদ জানাচ্ছে, এটার সমালোচনা করছে, সে হিসাবে আমরা আশা করি, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে অস্পষ্ট বিবৃতি না দিয়ে এ ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ভাই মনে করি। আমরা চাই, আমাদের সম্পর্কটা আরও সুন্দর ও মসৃণ হোক এবং একে অপরের সাহায্য আমরা দুদেশের সম্পর্ককে যেন এগিয়ে নিতে যেতে পারি। যে বিবৃতিগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে শুধু এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, অথচ এটা স্পষ্ট যে, আমেরিকা এখানে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যে কোনো আগ্রাসী ভূমিকা নিন্দার যোগ্য। কাজেই সুস্পষ্টভাবে এটা নিন্দা করাটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনানার বাড়ি থেকে আর ফেরা হলো না মণির, প্রাণ গেল মামাতো বোনেরও
পরবর্তী নিবন্ধহামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি