এশিয়া কাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুরু করা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। অনেকটা দাপটের সাথেই লিটনদের এ সূচনা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১–০ তে এগিয়ে গেল। সিলেট গতকাল শনিবার ডাচদের ১৩৬ রানে থামিয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় ৩৯ বল বাকি রেখেই। বাংলাদেশ ১৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে তুলে নেয় ১৩৮ রান। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতা তাসকিন আহমেদ জ্বলে ওঠেন বল হাতে। চার উইকেটের স্বাদ পান তিনি টি–টোয়েন্টিতে তৃতীয়বার। ম্যাচের সেরাও তিনিই। ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লিটন। তিনে নেমে বাংলাদেশ অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ৬ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৫৪ রানে। ত্রয়োদশ ফিফটিতে তিনি স্পর্শ করেন এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড।
টস জিতে তাই বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন। ডাচদের শুরুটা যদিও খারাপ ছিল না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামকে তিনটি চার মারেন মাঙ ও’ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনার পরের ওভারে শেখ মেহেদি হাসানকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ছক্কায়। তাসকিন আক্রমণে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র। তার প্রথম বলেই বিদায় নেন ২৩ রান করা ও’ডাউড। ডাচদের রানের গতিও অনেক কমে আসে এরপর। প্রথম তিন ওভারে ২৫ রান তোলা দল পরের তিন ওভারে তোলে ৯ রান। তাসকিন দ্বিতীয় ওভারে ফিরে আবার প্রথম বলে দেখা পান উইকেটের। ধুঁকতে থাকা বিক্রামজিৎ সিং বিদায় নেন ১১ বলে ৪ রান করে। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস চেষ্টা করেন রানের গতিতে দম দেওয়ার। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর দলে ফিরে প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট নিয়ে ডাচদের দমিয়ে দেন সাইফ হাসান। নেদারল্যান্ডসের রান তখন ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৬৮। পরের ১০ ওভারেও ৪ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ঠিক ৬৮ রানই। শারিজ আহমেদকে (১৫) ফিরিয়ে একমাত্র উইকেটের দেখা পান ম্যাচজুড়ে ভালো বোলিং করা মোস্তাফিজুর রহমান। চার ওভারে রান দেন ১৯। কাইল ক্লেইন ও নোয়াহ ক্রোসকে ফিরিয়ে তাসকিন পূর্ণ করেন নিজের চার উইকেট। অষ্টম উইকেটে টিম প্রিঙ্গল ও আরিয়ান দত্ত ২৭ রান যোগ করেন ১৫ বলে। শেষ ওভারে শরিফুলের বলে প্রিঙ্গলের ছক্কায় ১৩৫ ছাড়ায় দলের রান।
বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুটা ছিল চোখধাঁধানো। ইনিংসের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি পর তৃতীয় বলটি ছক্কায় উড়িয়ে দেন পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ওভারে মার খেলে অফ স্পিনার আরিয়ান দত্ত অবশ্য শোধ তোলেন নিজের পরের ওভারেই। দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন পারভেজকে। ৮ বলে ১৫ রান করেন তিনি। লিটন ক্রিজে গিয়ে সেই আরিয়ানকেই টানা দুটি চার মারেন। বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ডোরামকে রিভার্স সুইপে ছক্কার পর তিনি চার মারেন কাভার দিয়ে। অধিনায়কের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে শেষেও অধিনায়কে ব্যাটে সেই একই হাওয়া বইতে থাকে। তবে প্রথম বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরুর পর তানজিদ হাসান ঠিক ছন্দ পাননি আর। ৬৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি অনেকটাই ছিলেন দর্শক। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনার প্রিঙ্গলের ফুল টস লং অনে তুলে দিয়ে বিদায় নেন ২৪ বলে ২৯ রান করা এই ওপেনার। ডাচদের অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার কোনো সুযোগ দেননি লিটন। স্পিনের সামনে তার পায়ের কাজ ছিল দেখার মতো। উইকেটের চারপাশে শট খেলে ফিফটিতে পা রাখেন ২৬ বলেই। সবশেষ ১৯ ম্যাচে তার স্রেফ দ্বিতীয় ফিফটি এটি। শেষ দিকে তিন ছক্কায় সাইফ হাসানের ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংসও দলের জন্য সুখবর। ফেরার ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তার দলে সুযোগ পাওয়ার কারণটিও ফুটিয়ে তুলছে। টানা দুটি ছক্কায় সাইফ শেষ করে দেন ম্যাচ। ১ সেপ্টেম্বর একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে নামবে দু’দল।