ভূ–রাজনৈতিক ছায়ায় বেড়ে ওঠা লাল–সবুজের ‘বাংলাদেশ’ বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলের এক কোণায় হাজার বছরের বাঙালি (বাংলাদেশী) জাতি গণতান্ত্রিক চেতনায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট –২০২৬ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। এ বছরে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ, জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন, নেপাল সহ এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে মিয়ানমারের ভোট চলছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ নির্বাচনকে জেনারেলদের নির্বাচন বলে চিহ্নিত করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে আগাম সংসদীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
বৈশ্বিক এ ঢামাডোলের ভেতর বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সম্পদ সৃষ্টির একটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ ইন্দো–প্যাসিফিকের অঞ্চল। এ অঞ্চলটি বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের আবাসস্থল, চীন এবং ভারতের মতো প্রধান উদীয়মান শক্তিগুলি বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার গতিশীলতাকে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আর এর কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘নতুন জোট’ ধারণার একটি স্পষ্ট বার্তা উঁকি দিচ্ছে। যা বর্তমান ব্যাখ্যায়– এশিয়ার অর্থনৈতিক চুম্বকত্ব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির রূপরেখা পরিবর্তন করছে এবং পৃথিবী নামক গ্রহের ক্ষমতার ভারসাম্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে সংঘাতে ক্লান্ত মিয়ানমারে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক টুকে দিল মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা। নিকোলাস মাদুরোর অপসারণ, ইরানে মৃত্যুর মিছিল– সবই এক সুতোয় গাঁথা। গণতন্ত্র এখন মূখ থুবড়ে পড়েছে। টোটাল ওয়ারের এ বিশ্বে বড় খেলোয়াড়দের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নিজেরাই মহাবিপদে পড়েছে। যেন আমরা নিয়মহীন এক পৃথিবীতে বাস করছি। যেখানে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাই এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এখন বিশ্বমঞ্চে এ কথাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে– একটি প্রধান ভূ–রাজনৈতিক প্রবণতা প্রতিফলিত করে যেখানে অর্থনৈতিক শক্তি, জনসংখ্যা এবং কৌশলগত ফোকাস রয়েছে। এদিক থেকে বৈশ্বিক নজর এখন আটলান্টিক বিশ্ব থেকে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সে জায়গায় চীনের ইর্ষণীয় উত্থান। বিশ্বের একাধিক চিন্তাশীল বিশ্লেষক মনে করেন– গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এশিয়ার উত্থানের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে। আমাদের বলা হয়, এশীয় ঐতিহ্য ব্যক্তির চেয়ে গোষ্ঠীকে বেশি মূল্য দেয়, যুক্তির চেয়ে শৃঙ্খলাকে বেশি মূল্য দেয়। স্বাধীনতার চেয়ে কর্তৃত্ব বেশি, স্বাধীনতার চেয়ে সংহতি বেশি। কিছু এশীয় নেতা, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং মালয়েশিয়ার মাহাথির বিন মোহাম্মদ, তারা এশীয় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার সাথে ব্যক্তিকেন্দ্রিক পশ্চিমাদের উপর চাপানো বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের তুলনা করতে ভালোবাসে। তারা এশীয় দেশগুলিকে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে আবদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের নতুন রূপ বলে নিন্দা করে। তা সত্ত্বেও, ভারত এবং জাপানে কার্যকর গণতন্ত্র বিদ্যমান। জুলাই বিপ্লবের ঝড়ো হাওয়ায় তচনছ বাংলাদেশে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান। নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাংলাদেশ। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র উদযাপনের দিন হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারিকে বেঁচে নেয়া হয়েছে। এদিন– প্রতিদিনের মত বাংলাদেশের পূবআকাশে আবির মাখা রক্তিম আলোয় ভেসে আসুক মুয়াজ্জিনের আজান, কানে বাজুক মন্দির থেকে উলু–ধ্বনি, গির্জা–প্যাগোডায় সফেদ জামায় দাঁড়ানো মানুষের প্রার্থনার সূর! লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক।











