দেশ স্বাধীনের পর পেরিয়ে গেছে কয়েক দশক। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মজুমদারখীল গ্রামের জনবহুল জনপদের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা খালের ওপর একটি সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু আজও সেখানে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। বছরের পর বছর সংস্কারহীন এই সাঁকোটি এখন এলাকাবাসীর চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার সংযোগ রক্ষাকারী এই সাঁকোটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল–কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। কৃষিপণ্য নিয়ে কৃষকদের যাতায়াতও এখানে দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অতিবৃষ্টিতে সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে গেলে মাত্র ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৩০–৩৫ মিনিট বাড়তি সময় ব্যয় করে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে জরুরি প্রয়োজনে এক পাড়ার মানুষ অন্য পাড়ার সাহায্যে এগিয়ে আসতেও বিড়ম্বনায় পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌমিত্র সাহা আক্ষেপ করে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে বিভিন্ন সময় আমরা এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। বিগত সরকারের আমলেও অনেক চেষ্টা–তদবির করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে যুগের পর যুগ এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে মজুমদারখীলবাসীকে।
অবশ্যই এবার নতুন আশার কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন নসু। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূর উল্লাহ বলেন, ওই স্থানে একটি স্থায়ী পাকা কালভার্ট অচিরেই নির্মাণ হতে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়রা কেবল মুখে আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন চান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, একটি স্থায়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মিত হলে যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে যাবে।












