সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। নির্বাচনী সকল তথ্য এবং যে–কোনো নির্বাচনী কেন্দ্রে সহজে যাতায়াতের জন্য বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ‘মিত্র’ অ্যাপস চালু করা হয়েছে। যে–কোনো অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঁশখালীতে ৫ শতাধিক সেনা সদস্যসহ পুলিশ, বিজিবি, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে কেন্দ্রগুলো নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলায় জড়ো হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ), জামায়াতের প্রার্থী ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারার পদত্যাগী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল), ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী (চেয়ার), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেন)।
বাঁশখালী আসনে ১১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৫৬০ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার হলেন ৪ জন। ১১২টি ভোটকেন্দ্রে ১১২ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৭২০ জন সহকারি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১৪৪০ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে ৬৫৮টি স্থায়ী ও ৬২টি অস্থায়ীসহ মোট ৭২০টি কক্ষ।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, নির্বাচনে পুলিশের পক্ষ থেকে ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১১টি মোবাইল টিম এবং প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্যসহ ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচন বিগত নির্বাচন থেকে ভিন্ন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যে–কোনো কিছুর বিনিময়ে সুষ্ঠুও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের মোবাইল টিম কঠোর নজরদারি রেখেছে। কোনো অনিয়ম কিংবা অপরাধের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











