ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোখা, এখনও সাগরে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার জন্য রয়ে গেছে বাঁশখালীর হাজার খানেক ফিশিং ট্রলার। তবে অধিকাংশ বোট কূলে ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় লিচু বাগানে অপরিপক্ক লিচু থেকে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।
ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসাবে বাঁশখালীতে ১১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮৫ হাজার জনগণ আশ্রয় নেওয়ার মত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত সকলকে নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধি ও বাঁশখালীর উপকূলীয় ১০টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ১৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে উপজেলা বিভিন্ন স্থানে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের বোরো ধান কাটা শেষ করলে ও এখনো পর্যন্ত লিচু ও আম গাছে থাকায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কালীপুর ও বৈলছড়ির লিচু চাষি মো. জাফর এবং মাহমুদুল রহমান বলেন, লিচুর এখন পুরো মৌসুম। কিন্তু এ মুহুর্তে গাছেই রয়েছে ক্ষেতের অধিকাংশ লিচু। লোকের অভাবে গাছ থেকে লিচু পাড়া সম্ভব হচ্ছে না। এ মুহুর্তে ঝড় বৃষ্টি ও বাতাস হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে তারা জানান।
গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান উপকূলীয় চাম্বল, শেখেরখীল ও ছনুয়া এলাকার ফিশিং বোট মালিক সমিতি ও জেলেদের সাথে কথা বলে জেলেদের নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
চাম্বল এলাকার ফিশিং বোট মালিক আামিন উল্লাহ বলেন, আর কয়দিন পর সাগরে মাছ ধরা এমনিতে বন্ধ হয়ে যাবে। তার উপর এ সময়ে ঘূর্ণিঝড় হওয়াতে জেলেরা ঝুঁকি নিয়েও এখনো ফিরে আসেনি। অধিকাংশ মাছ ধরার বোট সাগরে থাকলেও অনেকে ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা টিম লিড়ার মো. ছগীর জানান, বাঁশখালীর উপকূলীয় ১০টি ইউনিয়নে সিপিপির ১৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। যারা ইতিমধ্যে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, বাঁশখালীতে বোরো ধান কর্তন শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। হার্ভেস্ট করা যায় এমন সকল সবজি তুলে ফেলতে বলা হয়েছে। আম ও লিচু পাকা অবস্থায় থাকলে সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে। আমরা সকলেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি ও কৃষকের পাশে আছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, আগাম প্রস্তুতি হিসাবে আশ্রয়কেন্দ্র, সিপিপির ১৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন ও দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানমাল ও ফসলের ক্ষতি যাতে কমিয়ে আনা যায় তার জন্য প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।.










