বাঁধনের জন্মদিন

সাঈদুর রহমান লিটন | বুধবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

আজ বাঁধনের জন্মদিন। সকাল থেকেই বাড়িতে উৎসব উৎসব ভাব। বাড়িতে দুই একজন অতিথির আগমন ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে। বাঁধনের ছোট ভাই বাপ্পি, চাচাতো ভাই কাকন বেলুন মোমবাতি আগেই বাজার থেকে কিনে এনেছে। বড় আকারের একটা কেক ও অর্ডার হয়ে গেছে।

বাড়িতে গমগম করছে আত্মীয় স্বজন। সন্ধ্যার পর কেক কাটা হবে। পাড়ার সকল শিশু কিশোর, তাদের মায়েরা সবাই এসে গেছে। তারা সবাই নতুন নতুন জামা কাপড় পরে এসেছে। সাজুগুজু ও করেছে যার যে রকম সামর্থ্য আছে। বাঁধনের মামিরা সবাই এসেছে।

তারাও সেজেগুজে অপ্সরা হয়ে আছে। মামাতো ভাই, মামাতো বোন, ফুফাত ভাই আসিক, ছোট মামা বাঁধনের জানের জান। তারা বাঁধনের সাথে সাথেই আছে। বাঁধনের মনে ভীষণ আনন্দ। বাঁধনের নানু ভাই কয়েক দিন আগে মারা গিয়েছে। না হয় তিনি ও তিনি ও আসতেন। ওর নানী বুঝি এসেছে। বাঁধন ওর নানিকে বুনি বলে। যখন উচ্চারণ করতে পারতো না তখন থেকে বুনি বলতে বলতে অভ্যাস। তাই বুনি বলা বাদ দিতে পারে নাই।

এখন ওর সব ভাই বোনেরাই নানিকে বুনি বলে।

বাড়ি ঘর বিজলী আলোতে ঝলমল করছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে এশার নামাজ পার হয়ে যাচ্ছে। কেক কাক কাটা দেরি হচ্ছে। বাঁধনের বন্ধু সাগর, সজীব, অনিক

আসতে একটু লেট করছে এই জন্য।এরা ওর প্রাণের বন্ধু। সাগর, সজীবরাও এলো কারেন্ট চলে গেলো।

কারেন্ট একবার গেলে আর আসতে চায় না। খুব অহংকারী কারেন্ট। লজ্জা শরম একটু বেশি। কারেনহীন হালকা আলোতেই হ্যাপি বার্থ ডে টু বাঁধন ধ্বনির মধ্য দিয়েই কাটা হলো জন্মদিনের কেক। বাঁধনের আম্মু বাঁধনের জন্মদিনের কেক খেয়ে সুখের কান্না কেঁদে দিল নীরবে। হই হুল্লোড় হলো। ফটোসেশান হলো। যদি ও কারেন্ট নাই। আনন্দ উল্লাস কম হয় নি। নাচা নাচানাচি, গাওয়া গাও ই খুবই হয়েছে। পাড়া শুদ্ধু মানুষ আমাদের উঠোনে। উল্লাস আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন বাঁধনের জন্মদিনের উৎসব। সবার মনে আনন্দ। আবির দেওয়া দেওই হচ্ছে। এভাবে কেটে গেলো ঘন্টা দুই। কারেন্ট তখনো আসেনি। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়, আত্মীয় স্বজনদের চলে যেতে হবে। খাবারের আয়োজন শুরু করতে হবে এখনই। বারান্দায় সবাই বসে গেলো। কোন কিছু বিছানো নাই। প্লাস্টারের পর ওয়ান টাইম গ্লাস আর প্লেট নিয়ে খাওয়া শুরু হলো।তৃপ্তি ভরে সবাই খেল। খুব মজা করে খেলো। খিচুড়ি রান্না হয়েছিলো। মুরগীর গোস্ত আর হলুদ খিচুড়ি। বর্ষার দিনে অনেকে খিচুড়ি পছন্দ করে। সারাদিন বৃষ্টি নেমেছিল। রাতে বৃষ্টি নাই। মামিরা মামারা চলে গেল।মামাত ভাই বোন চলে গেল।ফুফাত বোনেরা চলে গেলো। পাড়াপ্রতিবেশিরা ধীরে ধীরে চলে গেলো।

তখনও কারেন্ট এলো না। মজার ব্যাপার হলো সব কাজ যখন শেষ, সবাই ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন কারেন্ট বাবাজি এসে হাজির। তারপর ও অনেক উপভোগ করেছি আমরা বাঁধনের জন্ম দিন। বাঁধন শত বছর বেঁচে থাকুক এমন শুভকামনা করেছে সবাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই শহীদদের পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন মেয়র
পরবর্তী নিবন্ধআকাশ