বাঁচল না শিশুটি

বাবার সঙ্গে বিরোধে টার্গেট, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গলায় আঘাত গ্রেপ্তার আসামির জবানবন্দি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিন দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটি মারা যান বলে জানান তার চাচা মো. রমিজ উদ্দীন। এর আগে চমেক হাসপাতালে শিশু ইরার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়।

এদিকে শিশু হত্যা মামলায় বাবু শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মনির হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্তের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে টার্গেট করা হয়। গত রোববার সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে প্রাথমিক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

তিনি বলেন, ওইদিন বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের নির্মাণাধীন সড়কে কর্মরত শ্রমিকেরা গলাকাটা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এবং থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম আসছেন আজ
পরবর্তী নিবন্ধস্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তুতি