বহু বছর পর মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারছি : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের জন্য জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল বলে অবিহিত করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর আমরা মুক্ত পরিবেশে, কোনো নিষ্পেষণ, নির্যাতন ছাড়াই আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরের ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মেয়র। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সে সময় তার নারী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকে এখানে যে ভোটের পরিবেশ, আমি বলব এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আমরা বারবার বলেছি, আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব। সেই অধিকার আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আমি মনে করি। এজন্য প্রশাসন, সরকার এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে তিনি সাধুবাদ জানান।

তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তখনকার নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং একাত্মতা ছিল। ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাই তা মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতেন।

মেয়র বলেন, আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আজও ফলাফল যাই হোক না কেন, এই আন্তরিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা ধরে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে তিনি বলেন, নগরের প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে এবং ২২ লক্ষ ভোটারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সবসময় একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটির কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ শহরে সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে। কেউ যেন ভোট দিতে এসে অপমানিত বা নির্যাতিত না হয়। গত ১৬ বছরে নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল। আমরা চাই আজকের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকুক। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার ফলাফল প্রকাশের পর সবাই ঘরে ফিরে যাবেন এবং নির্বাচন প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসকালে ভোটের হার কম, সেনা তৎপরতায় দুপুরের পর বাড়ল
পরবর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে এজেন্টদের অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা