বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব চৌধুরী জহুরুল হক বেঁচে থাকবেন নিজের সৃজনশীল কাজে

স্মরণসন্ধ্যায় আজাদী সম্পাদক

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, নিজের লেখা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন চৌধুরী জহুরুল হক। তিনি যে উদ্দেশ্যে সাহিত্যকর্ম করেছেন তা যদি আমরা মনে রাখি তবেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক স্মরণসন্ধ্যা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্যকার ও নির্দেশক মুনির হেলাল এবং নির্দেশক ও অভিনেতা বিক্রম চৌধুরীকে। নাট্যমঞ্চ চট্টগ্রাম অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

আজাদী সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, চৌধুরী জহুরুল হক একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। নাটকে যেমন তার কাজ আছে, তেমনি গানেও। সংগীত রচয়িতা হিসেবে তিনি অনন্য সাধারণ। কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব আছে, তিনি ছিলেন গল্পকার ও ঔপন্যাসিক। বলা যায়, তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, গল্পকার, গীতিকার, রসসাহিত্য স্রষ্টা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণা ও সম্পাদনার কাজও করেছেন প্রচুর। চট্টগ্রাম কলেজে বাংলা সম্মান শ্রেণিতে পড়ার সময় পুরোপুরি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন তিনি। শিক্ষক হিসেবেও নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন জহুরুল হক। তাই শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চা দুটোই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন। সাহিত্যে তাঁর অন্যতম ব্যতিক্রমী সৃষ্টি ‘চোঙ্গা গল্প’। এটি মূলত রম্যরচনা। এ ধরনের গল্পগুলো ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে এবং সাহিত্যে এই নতুন ধারাটি একটি আন্দোলনে রূপ নেয়। নাট্য জগতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের নাটক: বিষয়বস্তু ও শিল্পরূপ’।

এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে চৌধুরী জহুরুল হক একজন নিরীক্ষাধর্মী সৃজনশীল শিল্পস্রষ্টা। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল অনুকরণীয়। চিন্তাভাবনার দিক থেকেও তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন। তার নামের মধ্যেই আছে সেই ব্যতিক্রমের ছোঁয়া। চৌধুরী জহুরুল হকের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জীবদ্দশায় প্রায় প্রতিদিনই দৈনিক আজাদী কার্যালয়ে আসতেন। আজাদী কার্যালয়ে আমাদের কতো যে দিন কেটেছে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর বেশিরভাগ বই কোহিনূর প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছিল। নাট্যকর্মী শ্রেয়সী স্রোতস্বিনীর সঞ্চালনায় ও নাট্যমঞ্চ সম্পাদক জাহেদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন ড. অরূপ বড়ুয়া। তাঁর স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘সমাজদ্বন্দ্বের সঠিক উপস্থাপনাতেই নাটক জনমুখী হয়’।

স্মরণসন্ধ্যায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী জহুরুল হকের পরিবারের সদস্য সংস্কৃতানুরাগী সদরুল আলম চৌধুরী, নাট্য গবেষক ড. ইউসুফ ইকবাল ও নাট্যজন শাহীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার দীপক চৌধুরী, অভিনেত্রী নাসরিন সরোয়ার মেঘলা, প্রবীণ সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, নাট্যমঞ্চ প্রকাশক ইয়াসমীন জাহান, নবীন নাট্যকর্মী অরিত্রী চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘নাট্যমঞ্চ’ একাদশ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে চৌধুরী জহুরুল হক রচিত নাটক থেকে পাঠ ও কবিতা আবৃত্তি করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪৯০ কোটি টাকার এলএনজি’র চালান দেশে পৌঁছেছে
পরবর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম