বহির্নোঙরে ২০ দিনের বেশি সময় ভাসছে জাহাজ, আগামী ৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশনা

অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে সভায় সিদ্ধান্ত

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য নিয়ে আটকে আছে এমন লাইটারেজ জাহাজগুলোকে আগামী ৫দিনের মধ্যে খালি করে দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে অপেক্ষমান জাহাজগুলোর মধ্যে প্রায়োরিটি ঠিক করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম থমকে যাওয়া এবং শতাধিক জাহাজ পণ্য নিয়ে অনেকটা অলস বসে থাকার প্রেক্ষিতে গতকাল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে আয়োজিত সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকার নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংস্থার মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ শফিউল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস, লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাহাজ মালিক, আমদানিকারক, শিল্প গ্রুপের মালিকসহ অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বলা হয় যে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সর্বমোট ১৬১টি জাহাজ অবস্থান করছে। এরমধ্যে ভোগ্যপণ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে ৬১টি জাহাজ।

এসব জাহাজে প্রয়োজনীয় লাইটারেজ জাহাজ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিডব্লিউটিসিসির পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয় যে, গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ৭২০টি লাইটারেজ জাহাজে পণ্য নিয়েছে। এরমধ্যে ৩২০টি জাহাজে ভোগ্য পণ্য এবং ১১৪টি জাহাজে সার, ৫০টি জাহাজে কয়লা রয়েছে। এরমধ্যে অনেকগুলো জাহাজ রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসছে। যেগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে যেগুলো ২০দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে পণ্য নিয়ে ভাসছে সেগুলোকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাতারবাড়ি থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলাকায় ১৬১টি জাহাজ থাকা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এগুলোর মধ্যে প্রায়োরিটি নির্ধারণ করে পতেঙ্গায় বহির্নোঙরে আসার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কার জাহাজকে কিভাবে প্রায়োরিটি দেয়া হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সভাতে। ভোগ্য পণ্যের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। এক্ষেত্রে কোন ধরণের পণ্য কিসের ভিত্তিতে প্রায়োরিটি পাবে তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে অশংগ্রহণকারী, বিডব্লিউটিসিসির মুখপত্র পারভেজ আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বৈঠকে সংকটের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য নিয়ে ভাসছে এমন জাহাজগুলোকে খালি করার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা কার্যকর করা হলে কিছু জাহাজ ট্রেডে ফিরে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যা বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদক সরবরাহ করতেন কারারক্ষী, হাতেনাতে ধরা
পরবর্তী নিবন্ধমহেশখালীর মাতারবাড়িসহ নতুন ৪ থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার