বসন্তের রঙে নিজেকে সাজাতে মেতে উঠেছে প্রকৃতি

সুপ্রতিম বড়ুয়া | মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃতিতে বসন্তের সাজ সাজ রব। শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্তের আগমনে কোকিল গাইছে গান। ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। ভালোবাসার পরশে আর ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। তাই কবির ভাষায়– ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। তাই ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাজ। বসন্তের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যতা যুগে যুগে মুগ্ধ করেছে কবিগুরুকে। বসন্ত এলেই বাঙালির মনে পড়ে যায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান, “আহা আজি এই বসন্তে।” বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন দোলা লাগে তেমনি মানব মনেও দোলা লাগে। মন ভালো লাগায় ভরে যায়। কবিগুরু তো রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছেন “ফুলের বনের যার পাশে যাই তারেই লাগে ভাল।” শুধু ভালোলাগা নয় ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের সাধ জাগে। যে কথা হয়নি বলা তা বলতে ইচ্ছা করে। ভীরু প্রাণে কেবলই বাজেমধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে/মধুর মলয় সমীরে মধুর মিলন রটাতে। বসন্ত এলে প্রকৃতিতে লাগে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সে পরিবর্তনের ছোঁয়া, বসন্তের মাতাল হাওয়া দোলা দিয়েছে বাংলার নিস্বর্গ প্রকৃতিতে। শীতের খোলসে ঢাকা থাকা পলাশ, শিমুল কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, এখন ফাগুনের স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধ ও কোকিলের গান জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি ঋতুর রাজ বসন্তের আগমনকে। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে বাঙালিদের মনেও দোলা লেগেছে। লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসছে বাঙালি। বিশেষ করে তরুণ তরুণীদের সাজ সজ্জা লক্ষণীয়। তরুণীরা খোঁপায় ফুল, বাসন্তী রং এর শাড়ি পরে। তরুণরা হলুদ পাঞ্জাবী পরে। এটি প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য অনন্য একটি দিন। সারাদিন ঘুরে বেড়ানো ও ভাব বিনিময়ে কাটা সময়। বসন্তের আনন্দ উল্লাস থেকে বাদ যায় না গ্রামেও। শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি শোনা যায় কোকিলের ডাক। এছাড়া শিমুল পলাশ কৃষ্ণচূড়াসহ বাহারি ফুলও চোখে পড়ে বেশি। আম, লিচুর মুকুল সৌরভ ছড়ায়। বসন্তকে ঘিরে পিঠাপুলি তৈরির ব্যস্ততাও থাকে। বসন্তে আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। কৃষ্ণচূড়ার সে লাল যেন রাজপথে ভাষার দাবীতে প্রাণ দেওয়া শহীদদের রক্ত। ১৯৫২ সালের ৮ ফাল্গুন বা ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ ঘটিত সে ঘটনা বসন্তের সাথে মিশছে। তাই বসন্তে ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদদেরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সকলে। বসন্ত নিয়ে কবি সাহিত্যিকদেরও রয়েছে অসংখ্য গল্প কবিতা। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে মাথায় ফুলের সাজ, পরনে বাসন্তী শাড়িতে সাজে মেয়েরা। আর ছেলেরাও সাজে পাঞ্জাবীতে। তারা দিনটিকে মাতিয়ে রাখে সারাদিন। সারা মিডিয়া জুড়ে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। এক কথায় নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করে বাঙালি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিময় বাতাস জানান দিচ্ছে নতুন লগ্নের। ফাল্গুনের আগমনে পলাশ, শিমুল গাছে লেগেছে আগুনে খেলা। মধুর বসন্তের সাজ রব সর্বত্র। পুরো প্রকৃতিতে চলছে বসন্তের আগমনের ধ্বনি। যেহেতু ঋতুরাজ বসন্ত, তাই উন্মাদনাটা আরেকটু বেশি। তাই বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে।

লেখক : প্রাবন্ধিক; অধ্যাপক, রামু সরকারি কলেজ ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনতুন সূর্যোদয়
পরবর্তী নিবন্ধবইয়ের পথে ফিরে আসা মানে চিন্তার পুনর্জাগরণ