বসন্ত প্রকৃতির নবজাগরণের ঋতু! ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে এই ঋতু তার পূর্ণ রূপে ধরা দেয়। গাছে গাছে নতুন পাতা ও ফুলের সমারোহ, বাতাসে ভেসে আসে মিষ্টি ফুলের সুবাস। এ সময় প্রকৃতি হয়ে ওঠে অনন্য।
বসন্ত মানে পূর্ণতা! ঋতুরাজ বসন্ত সেজেছে ধরায় নিজস্ব রূপে। পহেলা ফাল্গুন ছিল বাঙালির বসন্তবরণ প্রণের উৎসব! সেই সঙ্গে এবারের ভালোবাসা দিবসটিও একই দিনে বসন্তের রথে চড়ে এসেছিল। ফাগুন ও ভালোবাসার আবেদন কখনো ফুরোয় না প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে। প্রত্যাশিত বসন্ত মানবকূলের হৃদয় থেকে উৎসরিত হয় আজন্মকাল। এবারও ফাগুন এসেছে নতুন রূপে! বসন্তের প্রথম প্রহরে শিশির ভেজা শিমুল, পলাশ, অশোক ফুল শাখে–শাখে রঙিন মনোহর রূপে।
আম্রকাননে মুকুলিত বৃক্ষরাজি মৌ–মৌ সুবাস ছড়াচ্ছে। মৌমাছিদের মধুর গুঞ্জরণ, ভ্রমর –ভ্রমরী নেশায় বুদ হয়ে আবেশ ছড়ায় আমলকী পিয়ালের কুঞ্জে। প্রজাপতি, ঘাসফড়িং নেচে বেড়ায় ফুলের বিছানো শতরঞ্জিতে।
ষড়ঋতুর এই দেশে বাঙালির প্রাণ বিশেষ আবেদনে প্রতিবছর এই বসন্তের অপেক্ষায় থাকে। বসন্ত মানে নতুন সুরের মুর্চ্ছনা, নতুন প্রাণের কলরব।
এবছর ফাগুনের প্রথম দিনটিতেই আবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছিল তাই বলাই যায়, ফাগুন এসেছে ভালোবাসা নিয়ে কিংবা বসন্ত এলো ভালোবাসার দিনে! বসন্ত ও ভালোবাসা সবসময় একে অপরের পরিপূরক! ফলে একই দিনে দুটো উৎসবকে উৎসবমুখরতায় পালন করেছে এদেশের তরুণ –তরণী সহ সর্বস্তরের মানুষ। রঙিন এ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস যেন সবার হৃদয়ে লেগেছিল দোলা। প্রকৃতিও সেজেছে যেন অপরূপ সৌন্দর্য মাধুরি মিশিয়ে। কবির ভাষায় বলতে হয়েছে ‘ফুল ফুটুক আর না’ই ফুটুক আজ বসন্ত’–এ যেন ছিল সকল বিভেদ ভুলে, নতুন স্বপ্নের প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই চলে— বসন্তদিনের আগমনী সুর। নিয়মের পালাবদলে শীতকে বিদায় নিতে হচ্ছে রিক্ত হস্তে, ধূসর বিষণ্নতা নিয়ে আর বসন্তরাজ এসেছে রঙিন ফুলের ডালা সাজিয়ে, বাসন্তীকায় রকমারি ফুলডোরে যেন ফুলসজ্জা। সৌরভের মাখামাখি পুরো বসন্ত জুড়ে তাই কেটে যাবে অতীত শীতের জরা–জীর্ণতা!
ওম জড়ানো শীতকাল সে–ও তো কম কিছু দিয়ে যায় নি। বিদায়ী মিষ্টি শীতের আমেজে ও খোশমেজাজে বসন্তদিনের ভালোবাসার গান যেন একসঙ্গে টইটম্বুর। এমন ফাগুনের প্রথম প্রহরে শুধু প্রকৃতিতে নয়, নতুন নতুন ফুল পাতাদের সঙ্গে মানুষের মনেও জাগায় প্রাণের স্পন্দন! তাই বসন্ত উৎসবে নিজেকে সাজাতে রঙিন পোশাকে জড়িয়ে রঙিন হতে ফুলের গহনায় সেজে ফুলরানি হয়ে ওঠে বাঙালি নারীর তনুমন। তরুণ প্রজন্ম হলুদ পাঞ্জাবিতে নিজের মতো করে হিমু সেজে উঠেছিল কেউ কেউ। প্রেমময় বাসন্তী রং আর ভালোবাসাময় লাল রং প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মৃদুছন্দে আবেশে দোল খায় ফাল্গুনী ঝিরিঝিরি মাতাল হাওয়া। ভোমরাটা গায় ঘুম ভাঙানি গান, একঝাঁক পাখি ওড়ে ঐকতানে গায় ভোর বিহানে। এমন আবহে পুলকিত মন সেজে উঠে পুরো বাঙালি। কেননা এমন বসন্তদিনে ভালোবাসার দিন, ফাগুনের দিনে নতুন প্রাণে নতুন গানে জেগে ওঠার দিন। কবির ভাষায় — ‘আমার আপন হারা প্রাণ, আমার বাঁধন – ছেঁড়া প্রাণ! আহা! আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোটে, কত পাখি গায়’– প্রকৃতি ও মানুষ প্রতিবছর এমন বসন্ত ফাগুনের অপেক্ষায় থাকে। প্রকৃতি পূর্ণতা পায় বসন্তরাজ ফাগুন বেলায়।
গাছে গাছে ফুলের পসরা সাজায়। ফুলের শতরঞ্জি পেতে দেয় ফুলরানিদের রাজ্য থেকে। কোকিলের কুহু কূহু সুর আবেশে উতলা হৃদয় প্রকৃতি ও প্রেমের ফল্গুধারায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে বসুন্ধরা। ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতি মানব হৃদয়ে ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকে অমোঘ টানে। শুদ্ধতায় উপভোগ্য সমাদৃত, বৈচিত্র্যময় আয়োজনে আনন্দময় হোক ঋতুরাজ বসন্তের প্রতিটি দিন।










