শান্তিপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, ডিসি হিলে বর্ষ বরণের অনুষ্ঠান উপলক্ষে নগরীর লাভ লেন (নূর আহম্মেদ সড়কের মাথা), চেরাগি পাহাড়, এনায়েত বাজার মোড় ও বোস ব্রাদার্স (পুলিশ প্লাজা) মোড়ে রোড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে ডাইভারশন দেওয়া হবে। ফলে ডিসি হিল অভিমুখে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নগরীর আটমার্সিং, ফ্রেন্সিস রোড, কাঠের বাংলো ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মোডে রোড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে ডাইভারশন দেওয়া হবে। ফলে সিআরবি শিরীষতলা অভিমুখে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন আজাদীকে জানান, কোনো প্রকার হুমকি নেই। তবু নিরাপত্তার খাতিরে বর্ষবরণে নগরজুড়ে সিআরবি, ডিসি হিল, চারুকলা, শিল্পকলা একাডেমিসহ মূল অনুষ্ঠান স্থলে সাদা পোশাকে পুলিশ, বোম স্কোয়াড, ডিবি, সোয়াট টিমের মোট সাড়ে চারশ পুলিশ সদস্য সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, দুই বছর পর চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই লোক সমাগম বাড়বে। জানমালের নিরাপত্তায় আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংগঠন বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করে থাকে। নববর্ষে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মতবিনিময় করেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তাছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ। আয়োজকদেরও বলেছি সব নিয়ম মেনে চলতে।
এদিকে সিএমপির পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ উদযাপন উপলক্ষে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাসমূহ হল- ১) সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টার মধ্যে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। ২) নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আগতদের মুখোশ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩) ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় দর্শকদের নির্ধারিত প্রবেশ ও বাহির পথ ব্যবহার করতে হবে। ৪) বিরক্তির উদ্রেক ও শব্দ দূষণকারী ভুভুজেলা, বাঁশি ইত্যাদি বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ৫) বাজি-পটকা বহন ও ফাটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। উৎসব মুখরতা যাতে জনউপদ্রবে পরিণত না হয় সেক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। ৬) বড় ব্যাগ, পোটলা ব্যাকপ্যাক বহন করা যাবে না। ৭) অনুষ্ঠান উদযাপনে আগত নারী, শিশু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে। ৮) সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। ৯) যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ১০) উৎসব প্রাঙ্গণে কোনো খাবারের দোকান স্থাপন করা যাবে না। ১১) উৎসবমুখর শান্তিপূর্ণ ও নারী শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে সব ধরনের নাগরিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
এছাড়া বর্ষবরণে ট্রাফিক নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যানবহনের চালক ও যাত্রীসাধারণসহ সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (জনসংযোগ) শাহাদত হুসেন রাসেল।












