বর্তমান বাংলাদেশ : ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?

মো. আহসানুল কবির চৌধুরী টিটু | শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে দেশটি যেমন উন্নয়নের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তেমনি নানা চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখিও হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হতে পারে সে প্রশ্ন এখন সর্বমহলে আলোচিত।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এঙপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রগতি এসব উন্নয়ন দেশের সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ আগামী দিনে একটি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

তবে উন্নয়নের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও গণতন্ত্রের চর্চা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা আগামীর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যুবসমাজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও শিক্ষায় দক্ষ তরুণ প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিতে পারে নতুন দিগন্তে। তবে বেকারত্ব, মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তরুণরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল চালক। সামাজিক ক্ষেত্রে মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদক, দুর্নীতি ও বৈষম্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এসব সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি। নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এসব মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে। শান্তিরক্ষা মিশন, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারছে। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও কৌশলী হতে হবে।সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান বাংলাদেশ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুইয়ের মধ্যেই এগিয়ে চলেছে। সঠিক নেতৃত্ব, সুশাসন, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র।

অন্যথায় সম্ভাবনার এই সুযোগ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ আজকের বাংলাদেশই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅতিথি পাখিদের রক্ষা করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধআশার আলোয় নতুন বছরের শুরু