বর্তমানে ইসলামের নামেই ইসলামের নীতি আদর্শ ধ্বংস করা হচ্ছে

আল্লামা ইমাম হায়াত | মঙ্গলবার , ৩ মার্চ, ২০২৬ at ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ইসলামের নামেই কুফর জুলুম স্বৈরদস্যুতা মুলুকিয়ত কায়েম করে ইসলামের অপমৃত্যু ঘটাচ্ছে ওয়াহিবাদ, সালাফিবাদ, শিয়াবাদ, মওদুদিবাদ, তালেবান এসব ইসলামের ছদ্মনামে ইসলামের বিকৃতিকারি ঈমানী আকিদার বিপরীত ইসলামের শত্রু খুনি সন্ত্রাসী হিংস্র পাশবিক জংগীবাদি বাতিল ফেরকা। আল্লাহতাআলা বলেছেন– ‘লা ইকরাহা ফীদ্দীন ’ইসলামে জবরদস্তি নাই, বলপূর্বক জোর করে ইসলামের নামে কারো উপর কিছু চাপিয়ে দেয়া কাউকে ইসলামের নামে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু মানতে পালনে বাধ্য করা আল্লাহতাআলা হারাম করেছেন। ইসলামের নামে রাষ্ট্র করে ইসলাম সব মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া ইসলামের বিপরীত বলে ঘোষণা করেছেন আল্লাহ তাআলা। কেবল জ্ঞানের মাধ্যমে সম্মান স্বাধীনতা রক্ষা করে ভালোবাসার সাথে হৃদয়ের স্বাধীন উপলব্ধির পরিবেশে আল্লাহ প্রাণাধিক প্রিয়নবী ইসলামের আহবান জানাতে বলেছেন। (সুরা বাকারা আয়াত শরীফ ২৫৬)। ১০৯ তম সুরায় বলা হয়েছে– ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়লীয়া দ্বীন’ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন আমার জন্য আমার দ্বীন, অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষকে বাধাহীন ও আতংকমুক্তভাবে নিরাপদে যার যার বিশ্বাস আদর্শ ধর্ম পোষাক জীবনের পথ নিয়ে চলার স্বাধীনতা দান করেছেন দয়াময় রাব্বুল আলামীন এবং তাঁর হাবীব রাহমাতাল্লিল আলামীন।

মুক্ত জীবন ও জীবনের স্বাধীনতা না থাকলে সত্য ও জ্ঞানের প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে সত্যের নামেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক মিথ্যা কায়েম হয়ে যায়, আসল ইসলাম উৎখাত হয়ে ক্ষমতাসীনদের কুফর জুলুম হীন স্বার্থের মতবাদই ইসলামের নামে শরিয়তের নামে চালিয়ে দিয়ে সত্য ও জীবনের স্বাধীনতা ও মানবতার মুক্তির আসল ইসলামের ইনতেকাল ঘটানো হয়। জবরদস্তি ইসলামের বিপরীত, ইসলাম জীবনের স্বাধীনতার অপর নাম।

ইসলামের নামে শরিয়তের নামে যারা মানুষের জীবনের স্বাধীনতা হরণ করে কিছু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তাদের মত ইসলামের ধ্বংসকারি শত্রু আর কেউ নেই। কলেমার তাওহীদ রেসালাত ভিত্তিক জীবনচেতনা এই যেকেউ কারো মালিক নয়, কেউ কারো দাস নয়, কারো উপর ইচ্ছার বাইরে কারো কর্তৃত্ব আধিপত্য নাই, সবার মালিক আল্লাহ রাসুল এবং আল্লাহ রাসুলের পক্ষ থেকে যার মালিক সে, অন্য কেউ নয়, ব্যক্তিজীবনের বিষয়ে কারো কাছে জবাবদিহী করতেও বাধ্য নয় বা অন্য কারো ইচ্ছা বা হুকুমেরও অধীন ক্রীতদাস নয়। কেউ কারো উপর ইসলামের আইন বলে বা কোনোভাবেই কোনো কিছুই তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু মানতে বাধ্য করতে পারে না। যার সত্য যার ঈমান যার ইসলাম যার শরিয়ত যার মত পথ তার নিজের আর কারো মতের ইচ্ছার ব্যাপার নয়। বলপূর্বক কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দেয়া ইসলামের শিক্ষা লংঘন এবং ইসলামকে বিকৃত ও ধ্বংস করা। ইসলামের রাষ্ট্র কলেমার তাওহীদ রেসালাত খেলাফত ও ইনসানিয়াত ভিত্তিক চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত যার মৌলিক সত্য যার রূপরেখা আল্লাহ প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া জীবনের আত্মমালিকানা ও রাষ্ট্র ও দুনিয়ার সম্মিলিত মালিকানা এবং জীবনের অলংঘনীয় নিরাপত্তাস্বাধীনতাঅধিকারমর্যাদা।

কারো উপর যে কোনো নামে যে কোনো অনধিকার, বলপূর্বক যে কোনো জবরদস্তি, ইচ্ছাবিরুদ্ধ যে কোনো চাপিয়ে দেয়া বা কারো বিশ্বাস আদর্শ ব্যক্তিস্বাধীনতা নিষিদ্ধ করা চরম ব্যভিচার ফেরাউনি আবুজেহেলি মোয়াবিয়াবাদি এজিদি কুফরি চরিত্র এবং নিজেকে খোদা দাবির নামান্তর, ধর্মের নামেই ধর্ম হত্যা।

যেখানে মুসলিম অমুসলিম ভাই বোন সব মানুষের জীবনের সমান স্বাধীনতা অধিকার মর্যাদা নিরাপত্তা নাই সেখানে ইসলাম নাই, সেখানে মানবাধিকার নাই মানবজীবনই নাই। ইসলামে ঈমানের পর ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহতাআলা ও প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব মানুষের জীবনের স্বাধীনতা নিরাপত্তা অধিকার মর্যাদা।

ইসলামের নামে রাষ্ট্র চাপিয়ে দেয়া ইসলামের বিপরীত ও ইসলামের নামে ক্ষমতা জবরদখলের ধোকা এবং খোদ ইসলামকে অপহরণ করে নিজেদের কুফর খুন জুলুম ফেরাউনি স্বৈরদস্যুতন্ত্র আল্লাহ তাআলার নামে ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে আসল ইসলাম জবাই করা। ইসলামের রাজনীতি প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব মানুষের ভালোবাসা ও কল্যাণে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল ও সব মানুষের মানবিক স্বার্থের রক্ষক সর্বজনীন মানবতার রাজনীতি। ইসলামের নির্দেশিত রাষ্ট্র একমাত্র সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র। মানবতার রাষ্ট্র মানে প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব মানুষের জীবননিরাপত্তাস্বাধীনতাঅধিকারসমমর্যাদা ভিত্তিক ও একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতামুক্ত বৈষম্যহীন অসামপ্রদায়িক সর্বজনীন রাষ্ট্র, জীবনের স্বাধীনতা ভিত্তিক রাষ্ট্র। জীবনের স্বাধীনতা ছাড়া কেবল বর্ডারের স্বাধীনতা রাষ্ট্র নয়সত্য ও জীবনের বিরুদ্ধে অপশক্তির কারাগার কসাইখানা মানবতার বধ্যভূমি।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব,

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসদ্য চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহাল : মানবিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
পরবর্তী নিবন্ধবৃদ্ধাশ্রম নয়, ঘরই হোক বাবা-মায়ের শ্রেষ্ঠ স্বর্গ