বর্ণিল শোভাযাত্রায় খাগড়াছড়িতে বৈসাবি শুরু

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ, চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | বুধবার , ৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

নতুন বছর বরণ ও পুরোনো বছরের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে উৎসবে শামিল হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কয়ার ও শাপলা চত্বর হয়ে টাউন হলে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ‘রিআকাজা’ বা মৈত্রী পানিবর্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিনিতা ত্রিপুরা ও রেইন চাকমা বলেন, সারা বছর আমরা এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করি। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আগামী পুরো সপ্তাহজুড়ে বৈসু, ফুল বিজু ও সাংগ্রাই শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে।

পাহাড়ে ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি স্বকীয়তা রক্ষায় এমন উদ্যোগ প্রতিবছরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, আজকের শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সমপ্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে। এটা আমাদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরাজমান ভ্রাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের উৎসব ঐক্য ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করা হবে। পাহাড়ের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষায় প্রতিবছরই এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিয়া তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা ও সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল টাউন হল প্রাঙ্গণে বৈসু উদযাপন কমিটির আয়োজনে শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল মারমাদের সাংগ্রাই শোভাযাত্রা ও পানি খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বাইকের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল একজনের
পরবর্তী নিবন্ধমহেশখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি