বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে, ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আদালতে হট্টগোল

| বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যে তাকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। সেখানে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে মহানগর হাকিমের দ্রুত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের। আইনজীবী মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, তারা সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত অনুমতি দেয়নি। আদেশের পর একটি প্রিজন ভ্যানে করে আইনজীবী লিংকনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে আদালত বর্জন, এজলাসে হট্টগোল এবং বিচারকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ২০ জন বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় এ মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জনসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও আট জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার আসামির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওইদিন আসামিরা বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ত্রাস ও আতঙ্কের সঞ্চার হয়, যা আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। মামলার বিবরণে বলা হয়, ওইদিন বেলা আড়াইটার দিকে আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে অতর্কিত প্রবেশ করেন। তারা সেখানে শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন এজলাসে উপস্থিত সব আইনজীবীকে তাৎক্ষণিক বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি এক আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। এ সময় আইনজীবী মিজানুর রহমান অত্যন্ত অশোভনভাবে বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আসামিরা সেখানে দায়িত্বরত জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকেও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেন। উত্তেজিত আইনজীবীরা এক পর্যায়ে আদালতের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ এজলাসের বেঞ্চ ও টেবিল ভেঙে ফেলেন। এছাড়া আদালতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট এবং মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতা ছিঁড়ে ফেলে বিচারিক কাজে চরম বিঘ্ন ঘটান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলায় ২০ জেলে আহত, মাঝি গুলিবিদ্ধ
পরবর্তী নিবন্ধবৃত্তির জন্য নির্বাচিত সাড়ে ৬৮ হাজার শিক্ষার্থী