‘বন বিস্তারে বানর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’

মাটিরাঙায় প্রাইমেট ফেয়ার, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার তাগিদ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের বানরগোত্রীয় প্রাণী সংরক্ষণ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী প্রাইমেট ফেয়ার। গতকাল বুধবার মাটিরাঙার পিটাছড়ায় জার্মানভিত্তিক সংগঠন প্লামলরিস ইভি বাংলাদেশ এবং পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল, বন্যপ্রাণী গবেষক হাসান আল রাজি।

মেলায় খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলুটিলা বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের সামনে বানরগোত্রীয় প্রাণী, তাদের আবাসস্থল এবং প্রকৃতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বায়োস্কোপ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির বানরের সঙ্গে পরিচিত করা হয় শিক্ষার্থীদের।

অনুষ্ঠানে গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মেলায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বানর বন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। মাটিরাঙাসহ আশপাশের এলাকাগুলো লজ্জ্বাবতী বানর, চশমাপরা হনুমান ও মুখপোড়া হনুমানসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাইমেট রয়েছে। তবে মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ্যাৎ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করেই এসব প্রাণীগুলো রক্ষা করতে হবে। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের রক্ষা করতে হবে।

পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রাসেল বলেন, যারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ তাদের অনেকের মধ্যে বানরের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে অনীহা দেখা যায়। সেই জায়গা থেকে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বানরের সুরক্ষায় কাজ শুরু করেছি। আমরা দুটো স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থীকে বানর সম্পর্কে ধারণা দিব। এতে নির্বিচারে বানর হত্যা বন্ধ হবে মনে করি। মানুষ যাতে বানরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী হত্যা করতে না পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।

প্লাম্পলরিস ইভির টিম লিডার ও বন্যপ্রাণী গবেষক হাসান আল রাজী চয়ন বলেন, বানরগোত্রীয় প্রাণীরা বন সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটা প্রাণীর একটা ইকোসিস্টেম আছে।পার্বত্য এলাকায় পাহাড় থাকলেও ইকোসিস্টেমটা নাই। এখানে বন ধ্বংসের পরিমাণ বেশি। এসব জায়গায় বানরের সুরক্ষার জন্য আমরা এধরনের প্রাইমেট ফেয়ারের আয়োজন করি।

প্রাইমেট ফেয়ারে প্লাম্পলরিস ইভির এনিমেল কেয়ার ও রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর মারজান মারিয়া,বন বিভাগের খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মোশাররফ হোসেন, মাটিরাঙা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আতাউর রহমান লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রতিটি উপজেলায় রাস্তার ধারে বৃক্ষনিধন বন্ধের দাবি
পরবর্তী নিবন্ধপ্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল পরিচিতি সভা