বন্যায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

রোপা আমন ও বীজতলার ক্ষতি ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর । আউশের ক্ষতি সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মীরসরাই-সীতাকুণ্ড-ফটিকছড়ি

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৪ at ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বন্যায় চট্টগ্রামে ৭ উপজেলায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ১০৩ হেক্টর জমির আমনআউশ ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বন্যায় গতকাল ফসলের ক্ষয়ক্ষতির যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে মীরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুন্ড, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে। এসব উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন ১৮১৫ হেক্টর সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সবজির প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন কৃষিবিদরা।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কৃষিবিদের কাছ থেকে জানা গেছে, এসব উপজেলায় শুধুমাত্র ১ লাখ ৫৫৫ হেক্টর আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। রোপা আমন তলিয়ে গেছে ৪৩ হাজার ৫শ হেক্টর।

পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডারখ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল পানিতে ডুবে গেছে। এতে ৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমনের চারা পানিতে ডুবে রয়েছে। যদি ৭ দিন পর্যন্ত পানিতে ধানের চারা ডুবন্ত অবস্থায় থাকে তাহলে ব্রি৫১ ও ৫২ ছাড়া অন্যান্য জাতের কিছু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

চট্টগ্রামের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলে এখন আমন লাগানোর মৌসুম চলছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গুমাই বিলের প্রায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্ক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা। সামনে আউশ ধান কাটার জন্য কৃষকরা প্রস্তুতি নিলেও বন্যায় আউশের সব ফসলই নষ্ট হওয়ার শঙ্কার কথা বলেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এই ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ পরিচালক কৃষিবিদ ওমর ফারুক আজাদীকে বলেন, এই কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে বন্যায় ৭টি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার মীরসরাই, সীতাকুন্ড, ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে আমনআউশ ও সবজি ক্ষেতের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এবার ১ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বন্যায় ৪৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। আমনের ১ লাখ ৫৫৫ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জেলায় ৩৩ হাজার ১ হেক্টর আউশের মধ্যে ৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন ১৮১৫ হেক্টর সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন আমন রোপনের মৌসুম চলছে। আমনের বীজতলা যেটুকু ডুবে গেছেপানি নামার পর বলতে পারবো কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। রোপা আমনও যেটুকু পানিতে ডুবে গেছে পানি সরে গেলে কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা জানা যাবে। আমন হয়তো কিছু কিছু জায়গায় লাগানো যাবে। কিন্তু আউশ যেগুলো ডুবে গেছে সেগুলো আর হবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএকশ কিমির দীর্ঘ যানজট, তিনদিন ধরে মহাসড়কে অনেক যাত্রী
পরবর্তী নিবন্ধআন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পানির হিস্যা আমাদের দিতে হবে : খসরু