কাপ্তাই উপজেলায় বন্যহাতির আক্রমণে একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম রতন (৩৮)। ঘটনাটি ঘটেছে কাপ্তাই-জীবতলী সড়কে। জানা গেছে, কাপ্তাই জীবতলী সড়েকর একটি স্থানে রাস্তার পাশে স্থানীয় লোকজন গৃহস্থালী যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ফেলেন। সেই স্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পথচারি রতন। এসময় সেখানে ছিল কয়েকটি বন্যহাতি। এরমধ্যে একটি বন্যহাতি হঠাৎ ঐ পথচারীর উপর আক্রমণ চালায়। ভাগ্যক্রমে ঐ পথচারি আহত হলেও প্রাণে রক্ষা পান। বর্তমানে মানুষ চরম আতঙ্ক নিয়ে ঐ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন।
জানা গেছে, বন্যহাতির আক্রমণে কাপ্তাইয়ে গত ২ বছরে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে ২ জন ছিলেন পর্যটক। তাঁরা চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাইয়ে ভ্রমণ করতে এসে বন্যহাতির কবলে পড়ে প্রাণ হারান।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী এলাকার বিভিন্ন স্থানেও বন্যহাতির চলাচলের রাস্তা উল্লেখ করে একাধিক সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে মানুষ প্রয়োজনে চলাচলের সময় প্রায়ই বন্যহাতির কবলে পড়েন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, বন্যহাতি যতই ক্ষতি সাধন করুক এ ব্যাপারে হাতির বিরুদ্ধে কিছু করনীয় নেই। তবে সতর্কতা হিসেবে আমরা হাতি চলাচলের রাস্তা এড়িয়ে চলতে পারি। সন্ধ্যার পর বা রাতে কাপ্তাই জীবতলী সড়ক দিয়ে পারতপক্ষে যাতায়াত না কারি। এছাড়াও সড়কের উভয় পাশে সোলার ফেঞ্চিন লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। সোলার ফেঞ্চিন থাকলে সাধারণত এর পাশে বন্যহাতি আসেনা। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সময় সাপেক্ষ এবং ব্যায় বহুল। তবে বিষয়টি বন বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। বন্যহাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের কাছে আবেদন করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।













