শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাদের কাছ থেকে সুন্দর আচরণ প্রত্যাশা করলে তার সঙ্গে সুন্দরভাবেই আচরণ করতে হবে।
শিশুকে সুন্দর আচরণ শেখাতে হলে তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতে হবে। পরিবার থেকেই শেখাতে হবে বড়দের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয় আর ছোটদের কীভাবে ভালোবাসতে হয়। তাছাড়া শিশুরা একটু বড় হলেই বাইরের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করে। ফলে তাদের আচার–আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। যদি বুঝতে পারেন শিশু খারাপ কিছু শিখছে তাহলে তাকে শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনার ন্যায় তাদের আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এই যেমন ধরুন আপনি যদি বয়সে বড় ব্যক্তিদের সালাম দেওয়ার অভ্যাস করেন তাহলে আপনার সন্তান ও একই আচরণ পরিবার থেকে শুরু করে সবার প্রতি করতে চেষ্টা করবে। আপনি নিজে বড়দের প্রতি বাধ্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এবং ছোটদেরকে ভালোবেসে আপনার সন্তানের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরুন। এতে শিশু তা খুব সহজেই গ্রহণ করবে। ছোটবেলা এমন অনেক ভুল আপনি, আমি, আমরা সবাই করেছি। এখন যেমনটি আমাদের শিশুরাও করে। তাহলে সেই ভুলটিকে পজিটিভ নিয়ে তার অনুভূতির মধ্যে সাড়া জাগাতে হবে। ঠিক ভুলের পার্থক্য বুঝতে দিতে হবে। তাদের সাথে আজেবাজে বা অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করুন। তাহলে সে আপনার কাছ থেকে কোনো কিছু লুকাবে না। এবং সকল কথাই সে সাদরে গ্রহণ করবে। পারিবারিক কলহ শিশুর মস্তিষ্কে প্রবল আঘাত করে। পারিবারিক কলহ শিশুর মানসিক, সামাজিক ও জ্ঞানীয় বিকাশে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে; এটি শিশুর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, আচরণগত সমস্যা (যেমন – আগ্রাসন বা মাদকাসক্তি) তৈরি করতে পারে এবং পড়াশোনায় অমনোযোগিতার কারণ হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করে, কারণ শিশুরা পরিবার থেকেই সম্পর্ক ও সমস্যা সমাধানের কৌশল শেখে। শিশুর মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হওয়ার জন্য তাকে ভালোবাসা, যত্ন এবং সঠিক পরিবেশ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রতি ধৈর্য ধরুন এবং তাকে ভালোবাসুন। তার প্রশ্নের উত্তর দিন এবং মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রশংসা এবং উৎসাহ দিয়ে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ান এবং তাকে একটি নিরাপদ ও বন্ধুসুলভ পরিবেশে রাখুন।












