বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে। গতকাল সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মব কালচার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মব সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। সবকিছুকেই কেন মব বলতে হবে, কিছু কিছু সংগঠিত হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা–সুনির্দিষ্ট অপরাধ। মব স্টাইলে কারো ওপর জলুম করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মব নয় নির্ধারিত ক্রাইম। এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নাকি অন্য কোন কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধ অনুসারে এর বিচার নিশ্চিত হবে। কোনো অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ক্রিমিনালকে আইনের বাইরে রাখবো না– সবাইকে ক্রমান্বয়ে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
এসময় কক্সবাজারের পর্যটন দুর্বলতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যটন বললেই কক্সবাজারের নাম আসে। ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’
একই সাথে পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হলেই বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশ সম্ভব বলে জানান তিনি। মাদক রোধে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে উখিয়া–টেকনাফের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আরও জনবল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর পাহাড় এলাকায় বর্তমানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চলছে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এটি সরকারের প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার–৪ আসনের শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার–২ আসনের আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।












