দেশের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইন–শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগামী এক মাস সভা–সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তা কার্যকর হয়েছে আজ রোববার থেকে।
গতকাল রাতে এ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ‘এ’ শ্রেণির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। দেশের মোট আমদানি–রপ্তানির সিংহভাগ কার্যক্রম এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন আমদানি রপ্তানি পণ্য পরিবহনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও প্রাইম মুভার বন্দর এলাকায় চলাচল করে। এ বিপুল সংখ্যক যানবাহনের কারণে বন্দরের আশপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বন্দর এলাকায় যে–কোনো ধরনের মিছিল, সভা–সমাবেশ, মানববন্ধন বা পথসভা আয়োজনের ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা, স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ও জনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা রক্ষার্থে পুলিশ আইন, ১৮৬১–এর ২৯ ও ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বন্দর সংলগ্ন বারিক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ সন্নিহিত এলাকাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসব এলাকায় অস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট–পাথর ইত্যাদি বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের মিছিল, সভা–সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। গণবিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












