বন্দরে ভিড়ল জ্বালানি তেলবাহী আরেকটি জাহাজ

আছে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী আরো একটি জাহাজ ভিড়েছে। ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি ট্যাংকার গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় জ্বালানির এই চালানটি আমদানি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি তেল বহনকারী জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়ায় অবস্থান করছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা আরেকটি জাহাজ গত বুধবার বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আগেই এসেছে আটটি। সর্বশেষ এই জাহাজটি যুক্ত হওয়ায় মোট ৯টি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। আরো ছয়টি জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিপিসি সাধারণত সরকারটুসরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি করে। বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।

মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি আমদানি করা হয় ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বিপিসি গতকাল পুনরায় বলেছে, দেশে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। যে পরিমাণ তেল দেশে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে অনায়াসে এক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

বিপিসির শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ মজুদ এবং বাড়তি ক্রয় ঠেকাতে বিপিসি মনিটরিং করে জ্বালানি তেল সরবরাহ দিচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতেল সংকট, কার না পেয়ে ইজিবাইকে বরযাত্রা
পরবর্তী নিবন্ধপানছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা